‘আমিও কাজ হারিয়ে বসে আছি…’ ‘পৃথিবীর মধ্যে এক আলাদা পৃথিবী আমাদের ইন্ডাস্ট্রি!’ রাহুলের শেষ বিদায়ে কেন ছিলেন না অপরাজিতা? দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবেগঘন বার্তা অভিনেত্রীর!

জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম দক্ষ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy) সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভের মাধ্যমে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত শোক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। অভিনয় জীবনে প্রায় ৩০ বছর পার করা এই অভিনেত্রী নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নিজের পরিশ্রম এবং অভিনয়ের জাদুতে দর্শকদের মন জয় করেছেন। কেবল ছোট পর্দাই নয়, বড় পর্দাতেও তিনি সমানভাবে উজ্জ্বল। সম্প্রতি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। পেশাদার জীবনে একজন দক্ষ শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত জীবনে একজন টেকনিশিয়ানের স্ত্রী, যার ফলে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের হাসি-কান্না এবং সমস্যাগুলো তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেন।
রাহুলের প্রয়াণ এবং তার শেষকৃত্যে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের উত্তরে অপরাজিতা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, রাহুলের মৃত্যুর সময় তিনি ওড়িশায় একটি পূর্বনির্ধারিত কাজে ছিলেন এবং মানসিকভাবে তিনি প্রিয়জনের শেষ বিদায় দেখার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তিনি বলেন, “আমার পক্ষে সম্ভব নয় যে ওইখানে গিয়ে দাঁড়ানো বা ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর মতো মনের বল আমার ছিল না… খুব কাছের মানুষ কেউ চলে গেলে আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি না।” রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সাথে তার পারিবারিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “রাহুলের যা যা স্বপ্ন ছিল সহজকে নিয়ে এবং প্রিয়াঙ্কার প্রতি ওর যে পরিমাণ শ্রদ্ধা ছিল… সেইখান থেকে এই মানুষের চলে যাওয়াটা আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে।”
ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের তিন দশকের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অপরাজিতা সেটের নিরাপত্তা এবং অতীতের কঠিন দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তা নিয়ে আগে কোনো প্রশ্ন না উঠলেও এখন সময় বদলেছে। তিনি বলেন, “এই জুলাই এলে আমার অভিনয় জীবনের ৩০ বছর কমপ্লিট হবে… আগে সত্যিকারের সাপ আনা হতো বা আগুনের দৃশ্যে আঁচল লুটিয়ে অভিনয় করতে হতো, তখন নিরাপত্তার কথা আলাদা করে কেউ ভাবেনি।” তালসারিতে রাহুলের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে খুব কম সময়ের মধ্যে জল উঠে যায় এবং বিশাল জল উঠে যায়…যতক্ষণ না ঘটনা ঘটে যাচ্ছে ততক্ষণ আমাদের টনক নড়ে না। জীবন সবার আগে, জীবন সবথেকে দামি।”
বর্তমান শ্যুটিং বন্ধ থাকা এবং শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভেদ নিয়েও তিনি স্পষ্ট মতামত জানান। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “আজকে আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান সবাই এক হয়েছেন কারণ তারা এটা মেনে নিতে পারছেন না…মানুষ যদি তার কাজের জায়গায় মারা যায় সে কিন্তু শহীদ হয়, সুতরাং তার এই অধিকারটা তুমি কাটতে পারো না।” প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলের হুটহাট কাজ বন্ধ করার প্রবণতা নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “চ্যানেল যখন এসে বলে যে কাল থেকে আর শ্যুটিং হবে না… তখন কেউ তোমার ফোনটাও ধরবে না। আমি নিজেও অনেকদিন ধরে বসে আছি কারণ কাজ এত কম হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘একটা ভয়ংকর অসুখ ছড়িয়ে পড়ছে…’ ‘এতটাই নির্মম এতটাই নোংরা…’ পেরিয়ে গিয়েছে সহ্যের সীমা! প্রতিবাদে সরব অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য!
সবশেষে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে একটি সুস্থ পরিবেশের আশা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত জটিলতা মেটানো সম্ভব। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “সম্পূর্ণ সত্যটা জেনে আবার সবকিছু আগের মতো করা হোক… বড়রা যে ডিসিশন নিয়েছে সেই ডিসিশন কোনদিনও ভুল হতে পারে না।” রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সন্তান সহজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি বলেন যে, শিশুটি যেন বড় হয়ে তার বাবার মৃত্যু নিয়ে কোনো ভুল ধারণা পোষণ না করে। আলোচনার শেষে তিনি শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং ইন্ডাস্ট্রিতে পুনরায় কাজের পরিবেশ ফিরে আসার প্রার্থনা জানিয়ে ভক্তদের সাবধান থাকার অনুরোধ জানান।

