‘আমার পেশায় স্মার্টফোনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই!’ ডিজিটাল যুগেও ব্যতিক্রমী সুদীপা বসু! কেন আজও স্মার্টফোন ছোঁন না অভিনেত্রী?

বর্তমান যুগে এক মুহূর্তও স্মার্টফোন ছাড়া চলা যেন অসম্ভব। যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিনোদন সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ভিড়ে একদমই ব্যতিক্রমী বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুদীপা বসু (Sudipa Basu)। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী আজও স্মার্টফোনের বদলে কিপ্যাড ফোন ব্যবহার করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সুদীপা বসু মূলত বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশন জগতের একজন অত্যন্ত শক্তিশালী চরিত্রাভিনেত্রী। ‘এক আকাশের নিচে’, ‘তপুর টুপুর’, ‘বয়েই গেল’ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের ‘মেয়েবেলা’ ও ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পর্দার এই দাপুটে অভিনেত্রীর শুরুটা হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চ থেকে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবন পছন্দ করেন এবং জীবনের অনেকটা সময় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। এক সময় জীবিকার তাগিদে বাড়ি বাড়ি ঘুরে লজেন্স ও বিস্কুটও বিক্রি করেছেন তিনি।
পডকাস্টে স্মার্টফোন ব্যবহার না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুদীপা জানান, তাঁর পেশার প্রয়োজনে স্মার্টফোনের কোনো অপরিহার্যতা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রডাকশন ম্যানেজার আমাকে কল টাইম জানিয়ে দেন, আর শুটিং প্যাক-আপ হলে আমার ড্রাইভারকে সাধারণ ফোনেই ডেকে নিতে পারি’। অর্থাৎ কাজের প্রয়োজনে সাধারণ একটি কিপ্যাড ফোনই তাঁর জন্য যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন।
তথ্যের জন্য স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল হতেও নারাজ অভিনেত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, জানার কোনো শেষ নেই, তবে তার উৎস হওয়া উচিত বই কিংবা খবরের কাগজ। ভিডিওটিতে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কোনো বিষয়ে জানতে হলে তিনি গুগলের বদলে খবরের কাগজ পড়া বা বই পড়া পছন্দ করেন। স্মার্টফোনের নীল আলো বা ভার্চুয়াল জগৎ থেকে দূরে থেকে তিনি বাস্তবের পাতায় জ্ঞান অর্জন করতে বেশি আগ্রহী।
আরও পড়ুনঃ ‘জ্ঞান হওয়ার পর, দেড় বছর বয়স থেকেই আমি শিবরাত্রি পালন করি!’ দেড় বছর বয়সে শিবের ব্রত! ছোট থেকেই উপোস করতেন নবনীতা চ্যাটার্জি! অভিনেত্রীর কথা শুনে অবাক টলিপাড়া!
আজকের দিনে যেখানে ছোট থেকে বড় সবাই ফোনের স্ক্রিনে বন্দি, সেখানে সুদীপা বসুর এই সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তিকে এড়িয়ে নয়, বরং নিজের প্রয়োজনকে সীমিত রেখে তিনি যেভাবে যান্ত্রিকতা মুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন, তা আধুনিক প্রজন্মের কাছে এক বড় শিক্ষা হতে পারে। তাঁর এই জীবনদর্শন প্রমাণ করে যে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবনকে সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে চালানো সম্ভব।

