‘সরকার বদলের পর ফিরতে পারলাম…’ ‘সেই সময় বাধ্য হয়েছিলাম এখান থেকে…’ মেম বউয়ের পর কেন হারিয়ে গিয়েছিলেন বিনীতা চ্যাটার্জী? কি ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে? চেহারায় এসেছে বিরাট বদল! কেমন দেখতে হয়েছে অভিনেত্রীকে?

স্টার জলসার (Star Jalsha) অত্যন্ত জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘মেমবউ’ কে বাংলা টেলিভিশনের দর্শকেরা আজও ভোলেননি। এই ধারাবাহিকের হাত ধরেই রাতারাতি বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন বিনীতা চ্যাটার্জী (Vinita Chatterjee)। তবে কেবল একজন দক্ষ অভিনেত্রীই নন, বাস্তব জীবনে বিনীতা বহু প্রতিভার অধিকারী। বিনোদন জগতে আসার আগে তিনি কলকাতায় সাংবাদিকতা করতেন। পরবর্তীতে অভিনয়, মডেলিং ও অ্যাঙ্করিংয়ের পাশাপাশি একজন পেশাদার গায়িকা এবং র‍্যাপার হিসেবেও তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

২০১৬-১৭ সালের সেই চরম জনপ্রিয়তার সময়েও টলিউডের মূল স্রোত থেকে হঠাৎ বিনীতার উধাও হয়ে যাওয়াটা দর্শকদের মনে অনেক বড় প্রশ্ন তৈরি করেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই রহস্যের জট খুলেছেন অভিনেত্রী। বিনীতা অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান যে, সেই সময় বাংলা টেলিভিশনে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি অলিখিত নিয়ম বা শর্ত কাজ করত রুলিং পার্টি বা শাসকদলকে খোলাখুলি সমর্থন করতে হবে এবং রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এই নোংরা রাজনীতি এবং চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই নিজের কেরিয়ারের একদম শীর্ষ সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি বাংলা টেলিভিশন এবং কলকাতা ছাড়ার মতো অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

কলকাতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার পর বিনীতা সরাসরি মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান এবং হিন্দি বিনোদন জগতে নিজের জমি শক্ত করতে শুরু করেন। মুম্বাইয়ে গিয়ে তিনি বেশ কিছু হিন্দি প্রজেক্ট, মিউজিক ভিডিও এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বড় বড় ওয়েব সিরিজে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। একই সাথে বিনীতার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে; বর্তমানে তিনি বিবাহিত এবং বম্বের বাসিন্দা। তবে শুধু অভিনয়ের গণ্ডিতেই নিজেকে আটকে রাখেননি তিনি, মুম্বাইতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস। বর্তমানে তিনি অ্যাক্টর এবং প্রডিউসার উভয় ভূমিকাতেই অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছেন। এমনকি বলিউডের প্রথম সারির তারকা জন আব্রাহামের প্রোডাকশন হাউসের সাথে যুক্ত হয়ে তাঁদের একটি নতুন হিন্দি ওয়েব সিরিজের কাজও শুরু করতে চলেছেন বলে জানান বিনীতা।

দীর্ঘদিন পর বাংলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তন হওয়ার পর বিনীতা চ্যাটার্জী আবারও কলকাতায় তাঁর পুরনো চত্বরে কামব্যাক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁর মতো অনেক স্বাধীনচেতা শিল্পী, যারা দলাদলি না করে শুধু অভিনয়টুকু করতে চেয়েছিলেন, তারা নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা ও স্বাধীনতা পাচ্ছেন। তবে এই প্রত্যাবর্তন মেগা সিরিয়ালের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিদিনের কমিটমেন্টে হবে না বরং মুম্বাইয়ের সংসার এবং কলকাতার কাজ দুইই সামলাতে তিনি শর্ট-টার্ম প্রজেক্টের দিকেই ঝুঁকছেন। ইতিমধ্যেই অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জীর সাথে করা তাঁর একটি শেষ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লিক’-এর মতো বড় মাধ্যমগুলো যেভাবে স্বাধীন নির্মাতা ও অভিনেতাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা দেখে বিনীতা অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি চান টলিউডে আর কোনো ভেদাভেদ বা রাজনৈতিক আনুগত্যের চাপ না থাকুক, কেবল খাঁটি যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতেই যেন শিল্পীরা কাজ করার সুযোগ পান।

আরও পড়ুনঃ রক্তিমের ষ’ড়যন্ত্রের জাল কাটতে পাল্টা চাল অদ্বিতীয়ার! হিন্দি নাচের দল বানিয়ে ব্রজধামে এন্ট্রি গোরাদের! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষ অংশে বিনীতা বাংলার দর্শকদের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত জোরালো ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি দর্শকদের অনুরোধ করেছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে একা একা ফোন স্ক্রিনে মগ্ন না থেকে, ফ্যামিলি বন্ডিং বা পারিবারিক বন্ধন মজবুত করতে সবাই যেন হোম থিয়েটার বা স্মার্ট টিভির মাধ্যমে একসঙ্গে বসে সিনেমা বা সিরিয়াল দেখেন। একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দর্শকরা যেন কেবল ভালো কাজের প্রশংসাই না করেন, বরং ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো খারাপ, কুরুচিকর বা নিম্নমানের কন্টেন্ট তৈরি হলে সেটার বিরুদ্ধেও যেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে সোচ্চার ও প্রতিবাদী হন। তাঁর মতে, সুস্থ সংস্কৃতির স্বার্থে দর্শকদের এই প্রতিবাদী মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় কন্টেন্টের মান ও শিল্পীদের স্বাধীনতা রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

Back to top button