‘ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক দিয়েছি, কিন্তু কিছুই পেলাম না, শুধুই কষ্ট…’ ‘বেঁচে থাকাই এখন কষ্টকর মনে হয়!’ আক্ষেপ একসময়ের দাপুটে পরিচালক তাপস দাসের! আর্থিক অনটনে কিভাবে কাটছে তাঁর জীবন?

সিনেমার পর্দায় আমরা যাদের অভিনয় দেখি, তাদের আড়ালে থেকে কাজ করেন অনেক মানুষ। তেমনই একজন মানুষ হলেন তাপস দাস (Tapas Das), যাকে স্টুডিও পাড়ার সবাই ‘তাপস কাকা’ বলে চেনেন। একসময় টলিউডে তার খুব নামডাক ছিল, বড় বড় হিরো-হিরোইনরা তাকে সম্মান করতেন। কিন্তু আজ সেই মানুষটি খুবই অসুস্থ এবং অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কলকাতার একটি ছোট ঘরে বিছানায় শুয়ে আজ তিনি কেবল পুরনো দিনের কথা ভাবেন।
তাপস বাবুর জীবনের সবচেয়ে বড় স্মৃতি হলো মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে কাজ করা। তিনি আজও ভুলতে পারেন না উত্তম বাবুর সেই অমায়িক ব্যবহার। মহানায়ক তাকে কতটা ভালোবাসতেন এবং সম্মান দিতেন, সেই কথা বলতে গিয়ে আজও তার চোখ ভিজে ওঠে। উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তার মূর্তির সামনে জল দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক কাজ তিনি নিজের হাতে করেছেন। অথচ আজ যখন তিনি নিজে অসুস্থ, তখন টলিউডের কেউ তার খোঁজ নিতে আসে না।
একসময় তাপস বাবুর এতটাই ক্ষমতা ছিল যে, কোনো অন্যায় দেখলে তিনি শুটিং পর্যন্ত বন্ধ করে দিতেন। স্টুডিওর টেকনিশিয়ানদের বিপদে তিনি সবসময় সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শতাব্দী রায়—সবাই তাকে ‘বড় ভাই’ বলে ডাকতেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব বদলে গেছে। আজ তার ফোন করার মতো কেউ নেই, এমনকি যে সংগঠনগুলো তিনি নিজে গড়ে তুলেছিলেন, তারাও আজ তার বিপদে পাশে নেই।
বর্তমানে তাপস দাসের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। শরীর এতটাই অসুস্থ যে ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। ইনকাম বলতে কিছুই নেই, স্ত্রী আর ছেলের সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলছে। মজার ব্যাপার হলো, এত অভাবের মধ্যেও তিনি কারো কাছে হাত পাতেননি। অনেক চেনা মানুষের নম্বর তার কাছে নেই, আবার পুরনো বন্ধুদের নিজের কষ্টের কথা জানাতেও তার খুব লজ্জা লাগে। এক বুক অভিমান নিয়ে তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রিকে তিনি সারা জীবন অনেক কিছু দিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাননি।
আরও পড়ুনঃ সংসার না কেরিয়ার? ভুল সিদ্ধান্তে তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা জীবন! বিচ্ছেদ আর একাকিত্ব জয় করে অভিনেত্রী অদিতি চট্টোপাধ্যায়ের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই!
সবশেষে এই গুণী মানুষটির কেবল একটিই ইচ্ছা তিনি দয়া চান না, কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “শরীর না চললেও আমার বুদ্ধি তো এখনো ঠিক আছে, আমি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারি।” তার শেষ আকুতি শুনে বোঝা যায়, তিনি কেবল একটু সম্মান আর চেনা মানুষের সঙ্গ চান। টলিউডের এই পুরনো কারিগরের পাশে কি কেউ দাঁড়াবে? সেই উত্তর এখনো অজানা।

