‘আমি কালো ছিলাম তাই আমাকে…’ বাবা-মা থাকতেন আন্ডারগ্রাউন্ডে! অভিনেতা চন্দন সেনের বড় হয়ে ওঠার আড়ালে লুকিয়ে কোন অজানা ইতিহাস?

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলে যাওয়া যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও কাছের মানুষরা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen) তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সহযোদ্ধা রাহুলকে নিয়ে অনেক আবেগী কথা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, রাহুল আর তিনি কেবল অভিনয়ের জগতেই নয়, রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকেও ছিলেন এক ও অভিন্ন। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে রাহুলের কথা মনে করে যখন শতরূপ ঘোষের মতো তরুণ নেতারা কেঁদে ফেলছেন, তখন চন্দন সেনের কথাতেও ফুটে উঠেছে এক গভীর শূন্যতা। তাঁর মতে, রাহুল ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর অভাব কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
রাহুলের হঠাৎ চলে যাওয়াটা কি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে চন্দন সেন অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানান যে, এটি একটি দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ তাঁর রয়েই গেছে। তিনি বলেন, যদি সেই সময় ঘটনাস্থলে লিনা গঙ্গোপাধ্যায় বা শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ কেউ থাকতেন, তবে হয়তো রাহুলকে বাঁচানো যেত। মৃত্যুর আগের দিন রাত পর্যন্ত রাহুলের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথা হয়েছে। এমনকি দুজনে মিলে নতুন একটি ধারাবাহিকে কাজ করার কথাও প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাজটা শুরু হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
চন্দন সেন এই আড্ডায় নিজের জীবনের এক অজানা লড়াইয়ের কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর ছোটবেলাটা পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতো সহজ ছিল না। তিনি যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন তাঁর বাবা-মা রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করে বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’-এ থাকতেন। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি মানুষ হয়েছেন। ছোটবেলা থেকে দেখা সেই রাজনৈতিক পরিবেশই হয়তো তাঁকে আজ একজন স্পষ্টবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। নিজের শৈশবের এই কষ্টের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
বর্তমান সময়ে আমাদের চারপাশের সমাজব্যবস্থা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়েও চন্দন সেন বেশ চিন্তিত। তিনি মনে করেন, একটা সময় বাংলায় অপরাধের হার অনেক কম ছিল কারণ তখন প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর শাসনকালের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার যদি শক্ত হাতে হাল ধরে, তবে দাঙ্গা বা নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা কমানো সম্ভব। তাঁর মতে, কোনো দেশ বা রাজ্যের শান্তি নির্ভর করে সেখানকার সরকার কতটা দায়িত্বশীল তার ওপর। বর্তমানে চারিদিকের অস্থিরতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
আরও পড়ুনঃ বিবাহিত জীবনে ঝড়! অন্য সম্পর্কের জল্পনায় স্ত্রীর আ’ত্মহত্যার চেষ্টা! ৭০-এ মিঠুন চক্রবর্তীকে ঘিরে ফের চর্চা!
সবশেষে বলা যায়, চন্দন সেনের এই কথাগুলো কেবল একজন অভিনেতার মনের কথা নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষের আর্তনাদ। বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা, নিজের সংগ্রামী শৈশব এবং দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁর এই খোলাখুলি আলোচনা সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রুপালি পর্দার জাঁকজমকের বাইরেও শিল্পীদের একটা সংগ্রামের জীবন থাকে এবং সমাজের প্রতি তাঁদেরও অনেক দায়বদ্ধতা আছে। বন্ধু রাহুলের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চান।

