প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! বিস্ফোরক দাবি অরিন্দমের প্রথম স্ত্রী তনুরুচির!
আর জি কর ইস্যুর (R g kar incident )মাঝেই টলিউডে ( Tollywood ) যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। গত শনিবার ডিরেক্টরস গিল্ডের তরফ থেকে সাসপেন্ড করা হয় টলিউড জগতের জনপ্রিয় পরিচালক অরিন্দম শীলকে ( Arindam sil ) শুটিং সেটে এক অভিনেত্রীকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বোঝাতে গিয়ে তার সাথে অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ছিল জনপ্রিয় পরিচালকের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই পরিচালকের ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে।
বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী শুক্লা শীল ও মেয়ে সোনিকা শীলকে নিয়ে অরিন্দম শীলের সংসার। তবে অনেকেই জানেন না যে, তার দ্বিতীয় এই বিয়েটা আইনত বৈধ নয়। কারণ প্রথম স্ত্রী তনুরুচিকে আইনত ভাবে ডিভোর্স না দিয়েই শুক্লাকে বিয়ে করেছিলেন পরিচালক। পরিচালকের দ্বিতীয় স্ত্রী শুক্লাও আগে বিবাহিত ছিলেন। তার প্রথম স্বামীর নাম রজত রায়। রজত ও শুক্লার মেয়েই সোনিকা। শুক্লার স্বামী মারা যাওয়ার পর অরিন্দমের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শুক্লা। এইসব ব্যক্তিগত কথা জানা যাচ্ছে অরিন্দম শীল এর প্রাক্তন স্ত্রী তনু রুজির একটি পোষ্টের মাধ্যমে। যদিও এই পোস্টটি সাম্প্রতিককালে করা নয়। ২০২০ সালে এই পোস্টটি করেছিলেন তনুরুচি যা সাম্প্রতিককালে ভাইরাল হয়েছে। তনুরুচি লেখেন, “আমি তনুরুচি শীল। আমাকে আপনারা হয়তো চিনবেন না, চেনার কথাও নয়। রূপাঞ্জনার মত আমিও পরিস্থিতির চাপে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।”
এরপর তনুরুচি তার পোস্টে জানান যে, কীভাবে নাটকে কাজ করতে করতে তার সাথে অরিন্দমের আলাপ, প্রেম ও বিবাহ। তনুরুচি লেখেন,“ যে অরিন্দম শীলকে আপনারা চেনেন একজন চিত্র পরিচালক ও বর্তমান শাসক দলের একজন অনুগত বুদ্ধিজীবী রূপে, দুর্ভাগ্য বশতঃ উনি এখনো আইনত আমার স্বামী। আমি চার্বাক নাট্যগোষ্ঠিতে ছিলাম আর সোনেক্স আমি ও অরিন্দম একই সাথে কাজ করতাম। সেখানেই পরিচয়,প্রেম ও বিবাহ। আমার শ্বশুর মশাই শ্রী নিতাই চন্দ্র শীল ও শাশুড়ি সুতপা শীল।”
নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে তনুরুচি বলেন, “সুখী দম্পতি বলতে যা বোঝায় তাই ছিলাম আমরা। কিন্তু অশান্তির সূত্রপাত আমাদের দাম্পত্য জীবনে শুক্লা দাসের আগমনে। যে মহিলা টিকে সবাই জানে অরিন্দমের স্ত্রী হিসাবে ,এবার আসুন এই শুক্লা দাসের ইতিহাস টা ঝালিয়ে নেওয়া যাক।শুক্লা দাস জনৈক এস. সি. দাসের কন্যা। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে Larsen and Toubro, 3B, শেক্সপিয়ার সরনী অফিস জয়েন করে। আমি জয়েন করি ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে। তখন থেকেই ও আমার বন্ধু। ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে রজত রায়ের সাথে শুক্লার বিয়ে হয়। অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এই রজত রায়। ১৯৯৪ সালের র ১৯শে জানুয়ারি ওদের মেয়ে সোনিকা রায়ের জন্ম হয়। আমার আর অরিন্দমের সামাজিক বিয়ে হয়, ১৯৯২ এর ১৯শে নভেম্বর। তারপর ১৯৯৩ তে রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়। সেখান থেকেই আমরা চারজন বন্ধু। আর তখন শুক্লা দাস ছিল শুক্লা রায়।”
এরপর শুক্লার দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং অরিন্দমের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টা নিয়ে তনুরুচি বলেন, “শুক্লার স্বামী ওর প্রচন্ড অর্থ নৈতিক চাহিদা মেটাতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শুক্লার ব্যবহার ও ছিল খুব খারাপ। এই সময় শুক্লা স্বামী র বিরুদ্ধে ডিভোর্সের কেস করে।শুক্লার মেয়ে সোনিকা তখন ছোট,। ও পড়ত South point School-এ। সেই সময় বন্ধু র প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আমি , অরিন্দম ও শুক্লা তিনজন দার্জিলিং গিয়েছিলাম ওর মেয়েকে হোস্টেলে ভর্তি করানোর জন্য একটা ভালো হোস্টেলের খোঁজ করতে। কিন্তু তখনো বুঝতে পারিনি আমার বিশ্বাস আর সরলতার সুযোগ নিয়ে ও আমার স্বামীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত। একাধিক লোকের সাথে ওর সম্পর্ক থাকলেও মেয়ে সমেত ওকে কেউ বিয়ে করতে চায় নি। ওর স্বামী রজত কিছু দিন পরে মানসিক যন্ত্রণায়, ও চরম কষ্ট ভোগ করে মারা যায়।”
দীর্ঘ সেই পোস্টে তনুরুচি আরও লেখেন ,“ আমার বাবা ১৯৯৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান। বাবার চারদিনের কাজে আমি বাড়ি গিয়ে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি অরিন্দম আমার সাথে হঠাৎই অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করছে। তখনো কিছু বুঝতে পারিনি। পারলাম যখন জুন মাসে শুক্লা আর অরিন্দম আমার সামনে দিয়ে দার্জিলিং চলে গেল। আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। তারপর আমার আর অরিন্দমের যৌথ ভাবে কেনা ফ্ল্যাট ওরা দুজন দখল করে ও আমার নামে একটা কেস করে যে , আমি নাকি বাড়ি বিক্রি করে দিতে চাইছি। আমি ও পাল্টা কেসকরি ২০০৩ সালে। ২০১৯ সালে অর্ডার আসে ৫০% মালিকানা আমাকে দিতে হবে। কিন্তু সেই মালিকানা আজও আমি পাইনি।ঐ ফ্ল্যাটে শুক্লা র বাবার সিকিউরিটি অফিস খুলে বসে আছে।”
বিয়ে না করি শুক্লা নিজের সন্তানকে ও নিজেকে শীল পদবি দিয়ে বসেন। তনুরুচির কথায়, “আমার বিরুদ্ধে ওর করা ডিভোর্সের কেসটাও ডিসমিস হয়ে গেছে। আবার ওটা পুনরায় খোলা করিয়েছে আমাকে অপদস্থ করবে বলে। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে ১৯৯৯ সালেই মেয়েকে এনে শুক্লা গার্ডেন হাই স্কুলে ভর্তি করালো সোনিকা শীল নামে । কিন্তু ও কোর্টের কোন দত্তক নেওয়ার কাগজ দেখাতে পারেনি। বিয়ে না করেই ও নিজেকে শুক্লা শীল হিসেবে পরিচিয় দেয়। আমি অনেক বছর ঘুরেও কোন সুবিচার পাইনি।এর মধ্যে রাজ্যে তৃণমূলের আগমন। সুবিধা বাদী অরিন্দম কুকর্মের সুবিধা নেবার জন্য বামপন্থী তকমা ত্যাগ করে রাতারাতি হয়ে গেল একনিষ্ঠ তৃণমূল অনুরাগী।”
আরও পড়ুন: নোংরা মানসিকতার অনির্বাণ আর লোভী স্বার্থপর নীলু, একে অপরের পরিপূরক! দাবি দর্শকদের!
শুক্লা যে অরিন্দমের স্ত্রী নয় শুধুমাত্র লিভ ইন পার্টনার এই বিষয়টা ওপেন চ্যালেঞ্জ করে তনুরুচি সেই পোস্টে লিখেছিলেন, “এর পর শুক্লা র Larsen and Toubro-র চাকরি টাও চলে গেল একটা কেলেঙ্কারির কারনে। অরিন্দম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওকে সরকারি চাকরি তে ঢুকিয়ে দিল। আমি শুক্লা দাসকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ করছি ও প্রমাণ করুন ও অরিন্দমের আইন সঙ্গত স্ত্রী। আনন্দ বাজার পত্রিকা কে উনি বলেছেন উনি নাকি আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবে। যার কোন মান নেই ,তার আবার মানহানি কিসের। সত্যি কথা শুনে যদি ওনার মনে হয়, মানহানি হল, তবে এটা ওনার সমস্যা। এবার আপনার ই বিচার করুন অরিন্দম ও তার লিভ ইন পার্টনার শুক্লা দাস কি প্রবৃত্তি র মানুষ। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ রূপাঞ্জনা , তুমি আমাকে পথ দেখালে বলেই আজ এই কথাগুলো আমি সর্বসমক্ষে বলতে পারলাম।”

