‘সোহিনী এইজন্য আমাকে জেঠু বলে ডাকে..!’ হঠাৎ কি কারণে অনির্বাণকে জেঠু বলে সম্বোধন করেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার?

অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) এবং সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar) দুজনেই টলিউডের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং মেধাবী অভিনয়শিল্পী। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন এবং পর্দার রসায়ন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা ‘ইগোর’, ‘ধনঞ্জয়’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ এবং ‘মন্দার’-এর মতো কাজের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে ইদানীং তাঁকে বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না বলে বেশ চর্চা চলছে। ‘মন্দার’ বা ‘বল্লভপুরের রূপকথা’-র মতো সফল পরিচালনার পর তিনি পর্দার পেছনের কাজে অনেকটা সময় ব্যয় করছেন।

অন্যদিকে সোহিনী সরকার টলিউডের একজন ‘পাওয়ারহাউস’ পারফর্মার। ‘ফড়িং’ সিনেমা দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও ‘রাজকাহিনী’, ‘বিবাহ ডায়েরিজ’ এবং ওয়েব সিরিজ ‘ইন্দু’-র মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছেন। সোহিনীর বিশেষত্ব হলো তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং যেকোনো চরিত্রে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। ব্যক্তিগত জীবনে সোহিনী অত্যন্ত স্পষ্টবাদী। বিভিন্ন সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়া হলেও তিনি সবসময় নিজের শর্তে বাঁচতে পছন্দ করেন।

সম্প্রতি তিনি অভিনেতা শোভন গাঙ্গুলিকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চিত হয়েছিল। কিন্তু একসময় অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং সোহিনী সরকারের সম্পর্কের গুঞ্জন টলিউডের স্টুডিও পাড়ায় এক সময় বেশ জোরালো ছিল। তাঁদের রসায়ন মূলত দানা বাঁধে মঞ্চ এবং বেশ কিছু সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে। বিশেষ করে ‘ফড়িং’ বা পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রজেক্টে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন।

সম্প্রতি একটি পড কাস্ট শো তে এসে অনির্বাণকে প্রশ্ন করা হয় সোহিনী কেমন মেয়ে? তখনই অনির্বাণ উত্তর দেন, ‘খুবই ভালো মেয়ে সোহিনী, এই জন্য সোহিনী আমাকে জেঠু জেঠু বলে সম্বোধন করে। আমার মধ্যে ৯০ বছরের বুড়োর মতো একটা ভাব রয়েছে।’ তাঁদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন ছড়ানোর প্রধান কারণ ছিল তাঁদের চমৎকার অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি। দর্শকরা তাঁদের জুটিকে বাস্তবের জুটি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কেউ এগিয়ে আসেনি একমাত্র মমতা ব্যানার্জি ছাড়া…যে দল কাজ করবে তাকেই তো চাইবে সাধারণ মানুষ!’ জনসম্মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেব অধিকারী!

আসলে টলিউডের মতো গ্ল্যামার জগতে দুই সফল অভিনয়শিল্পী একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সময় সাধারণ বন্ধুত্ব বা পেশাদারী ঘনিষ্ঠতাকে প্রেমের রূপ দেওয়া হয়। অনির্বাণ ও সোহিনীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তার ব্যতিক্রম ছিল না। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই নিজ নিজ জীবনে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সুখী। অনির্বাণ ব্যস্ত তাঁর নির্মাণ ও অভিনয় নিয়ে, আর সোহিনী ব্যস্ত তাঁর নতুন বিবাহিত জীবন ও আগামীর কাজ নিয়ে।

Back to top button