‘বাবাকে আর দুটো দিন বাঁচিয়ে রাখ যাতে গিয়ে দেখতে পাই…’ টালমাটাল অবস্থাতেও বন্ধ হয়নি শুটিং! বাবার মৃ’ত্যুর দুদিন পরেই শুটিং সেটে সুদীপ্তা!

টলিউড (Tollywood) ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় দক্ষ অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty)। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী। ছোট পর্দা, বড় পর্দা সব জায়গাতেই দাপিয়ে কাজ করছেন বেশ অনেক বছর ধরেই। অনেকবছর হলো টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় না অভিনেত্রীকে তবে বড় পর্দা এখনো ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। কিছুদিন আগে নিজের রিয়েলিটি শো শুরু করেছেন সান বাংলার পর্দায়, সেই নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন।
তবে এরই মাঝে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর দিনের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীর সুদীপ্তা চক্রবর্তী অভিনেতা রাহুলের পডকাস্ট শো সহজ কথায় এসে সেই কথাই জানিয়েছিলেন। তার জীবনের সমস্ত উল্লেখযোগ্য কাজ গুলোর সুযোগ কোনোটাই তাঁর কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে আসেনি।
অভিনেতার রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোতে এসে আলোচনা করছিলেন কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত জ্যেষ্ঠপুত্র সিনেমা নিয়ে। সেই ছবিতে ইলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুদীপ্তা। এবং বলাই উচিত এই চরিত্রের জন্য দারুন প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু ওই ইলা চরিত্রটি তার কাছে পৌঁছলেও তিনি ছিলেন দ্বিতীয় পছন্দ। এবং যখন সে চরিত্রটির অফার তিনি পেয়েছিলেন, তখন তার জীবনে চলছে বড়সড় ঝড়। তার বাবা তখন মৃত্যুশয্যায়।
অভিনেত্রী বলেন, “ইলার জন্য কিন্তু আমি প্রথম পছন্দ ছিলাম না। বলে যে কয়েকটা উল্লেখযোগ্য কাজ আছে সব জায়গাতেই আমি রিপ্লেসমেন্ট অভিনেতা হিসেবে পৌঁছেছি। তখন বাবা প্রচন্ড অসুস্থ। প্রায় মৃত্যুশয্যায়। সেই সময় কৌশিকদা ফোন করে বললেন একটা এরকম চরিত্র আছে তুই কিন্তু চরিত্রটা করছিস। স্ক্রিপটা যখন পাঠিয়েছে তখন আমি আর ওটা পড়ার অবস্থায় নেই। তখন আমার দিদি বিদেশে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন যে দিন গুনুন। দিদি বিদেশ থেকে ফোন করে বলছে, ডাক্তারকে বল বাবাকে আর দুটো দিন বাঁচিয়ে রাখতে, আমি যেন গিয়ে বাবাকে দেখতে পাই। ওই সময় দাঁড়িয়ে স্ক্রিপ্ট পড়া সম্ভব না।”
আরও পড়ুনঃ রুদ্র শয়তানিতে অ’গ্নিদগ্ধ বড় রাজা! তবে কি বাবাকে পেয়েও হারিয়ে ফেললো ফুলকি! প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ প্রোমো!
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘বাবা মারা গেলেন ৩০ শে নভেম্বর। জ্যেষ্ঠপুত্রর শুটিং হওয়ার কথা ছিল ২ ডিসেম্বর থেকে। এক তারিখ রাত্রিবেলা আমার বাবাকেই যে ডাক্তার দেখতেন, সেই নিউরোলজিস্টকে আমি ফোন করে আমি আলোচনা করছিলাম। সেটা আমার চরিত্রের প্রয়োজনেই। ডাক্তারবাবু ভাবছেন যে যে মানুষটা দুদিন আগেও বাবাকে নিয়ে কথা বলতেন, একি ধরনের মেয়ে, যে বাবা মারা যাওয়ার দুদিনের মধ্যেই চরিত্র নিয়ে আলোচনা করছে?”

