‘সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করে হাজতবাস!’ ‘মোটা থেকে রোগা হতেই আমায়…’ ‘ওই অবস্থাতে আমার সব কাজ কেড়ে নেওয়া হলো!’ টলিউডের বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক অভিযোগ! ক্ষো’ভ উগরে দিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী!

আমাদের অতি পরিচিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা হলেন শঙ্কর চক্রবর্তী (Shankar Chakraborty), যিনি দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছেন। দূরদর্শনের পর্দায় ‘বিবাহ অভিযান’ ধারাবাহিকের ‘গনসা’ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে এক বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তবে শঙ্কর চক্রবর্তী কেবল একজন টেলিভিশন অভিনেতাই নন, তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং থিয়েটারের দুনিয়া থেকে উঠে আসা এক বলিষ্ঠ শিল্পী। অভিনয় জীবনের শুরুতে পাড়ার থিয়েটার থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে মনোজ মিত্র, কুমার রায় এবং কিংবদন্তি উৎপল দত্তের মতো বহু নাট্যব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য ও শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই বর্ষীয়ান অভিনেতা তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে তিনি বর্তমানে খুব একটা ভালো নেই, কারণ এখন তাঁর হাতে মেগা সিরিয়ালের কোনো কাজ নেই। দুঃখের বিষয় হলো, পরপর দু-তিনটি মেগা সিরিয়াল থেকে তাঁকে হঠাৎ করেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো রকম যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইন্ডাস্ট্রি থেকে এভাবে কাজ কেড়ে নেওয়া এবং আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া নিয়ে তিনি বেশ কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

কাজ থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে যে সমস্ত অদ্ভুত কারণ দেখানো হয়েছে, তাও অভিনেতা প্রকাশ করেছেন। শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, মেগা সিরিয়ালের পক্ষ থেকে তাঁকে বলা হয়েছে যে তিনি নাকি আগের চেয়ে অনেক বেশি রোগা হয়ে গেছেন। অথচ একটা সময় যখন তাঁর ওজন বেশি ছিল, তখন তাঁকে বলা হতো তিনি মোটা এবং সব চরিত্রে তাঁকে মানায় না। এখন রোগা হওয়াতে নির্মাতারা অজুহাত দিচ্ছেন যে তাঁদের একটু ‘হাট্টাঘাট্টা’ চেহারার অভিনেতা প্রয়োজন। খোঁচাখুঁচি করে এমন সব অদ্ভুত বাহানা তৈরি করে তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করার পেছনের এক অন্ধকার ও কঠিন অতীত লড়াইয়ের কথাও এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে পরিচালকদের কাছে কাজ চাইতে গেলে অনেকে তাঁর চেহারা দেখে বিরূপ মন্তব্য করতেন এবং বলতেন যে তাঁকে “চাষির মতো” দেখতে। সেই সময় জীবনধারণের জন্য তিনি রাতে ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন এবং দিনে স্কুল ও থিয়েটার করতেন। এমনকি পেটের তাগিদে সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করতে গিয়ে তাঁকে হাজতবাসও করতে হয়েছিল। সেই কঠিন দিনগুলিতে তাঁর স্ত্রী সোনালী দেবী নিজের নাচের টিউশনির সমস্ত টাকা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন এবং ভালো সেলুনে চুল কাটানো থেকে শুরু করে জামাকাপড় কিনে দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ‘সাফল্যের চূড়াতেও চোখে জল!’ ‘মেয়ের সুরেলা ভবিষ্যতের জন্য নিজের সঙ্গীত কেরিয়ার বিসর্জন!’ গায়িকা অন্বেষার জনপ্রিয়তার পেছনে লুকিয়ে মা-বাবার নীরব আত্মত্যাগ!

সবশেষে, শঙ্কর চক্রবর্তী তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায় অর্থাৎ কিংবদন্তি উৎপল দত্তের নাট্যদল ‘পিএলটি’-তে কাটানো দিনগুলির স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর তিনি উৎপল দত্তের অধীনে কাজ করেছিলেন, যেখানে তিনি অভিনয়ের আসল ব্যাকরণ ও হাঁটাচলা শিখেছিলেন। উৎপল দত্তের কড়া শাসন ও ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে রিহার্সালে ভুল করলে তিনি হাতের কাছে যা পেতেন তাই ছুড়ে মারতেন। এমনকি ‘কল্লোল’ নাটকের মঞ্চায়নে ভুল সময়ে বাজি ফাটানোর কারণে এক কর্মীকে তিনি চড় মারতেও পিছপা হননি। তবে শাসন করলেও ভালো কাজের জন্য তিনি সবসময় প্রশংসায় ভরিয়ে দিতেন বলে অভিনেতা আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেন।

Back to top button