‘সাফল্যের চূড়াতেও চোখে জল!’ ‘মেয়ের সুরেলা ভবিষ্যতের জন্য নিজের সঙ্গীত কেরিয়ার বিসর্জন!’ গায়িকা অন্বেষার জনপ্রিয়তার পেছনে লুকিয়ে মা-বাবার নীরব আত্মত্যাগ!

আমাদের চেনা জগতের চাকচিক্য আর জনপ্রিয়তার আড়ালে প্রায়শই লুকিয়ে থাকে এক দীর্ঘ পরিশ্রম ও লড়াইয়ের গল্প। বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অন্বেষা দত্তের (Anwesha Dutta) সঙ্গীত জীবনের পথচলাটাও ঠিক তেমনই। খুব ছোট বয়স থেকেই সুরের মায়াজালে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি। আজকের দিনে তিনি যে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছেন, তার পেছনে রয়েছে তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, নিষ্ঠা এবং অল্প বয়স থেকেই প্রফেশনাল প্লেব্যাকের জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার এক কঠিন মানসিকতা।

তবে অন্বেষার এই সাফল্যের ভিত তৈরি হয়েছিল তাঁর নিজের ঘরেই। একটি শিশুর ভেতরের প্রতিভাকে চিনতে পারা এবং সঠিক সময়ে তাকে বিকশিত করার পেছনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। অন্বেষা যখন নিতান্তই অবুঝ শিশু, তখনই তাঁর মা বুঝতে পেরেছিলেন যে মেয়ের মধ্যে সুরের এক স্বাভাবিক বোধ রয়েছে। সেই থেকে শুরু হয় এক নতুন লড়াই। কীভাবে মেয়েকে প্রথাগত ও সঠিক সঙ্গীতের তালিম দেওয়া যায়, কীভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি গানের রেওয়াজ বজায় রাখা যায় তা নিয়ে দিনরাত এক করে ভাবতেন তাঁর মা-বাবা।

একটি স্কুলের বাচ্চা যখন প্রথম স্টুডিওতে পা রাখে বা প্রফেশনাল প্লেব্যাকের দুনিয়ায় কাজ শুরু করে, তখন তার কাছে চারপাশের পরিবেশটা মোটেও সহজ থাকে না। অন্বেষার ক্ষেত্রেও স্ট্রাগলটা কম ছিল না। কিন্তু সমস্ত ভয় ও দ্বিধাকে কাটিয়ে ওঠার সাহস জুগিয়েছিলেন তাঁর অভিভাবকেরা। বাড়ি থেকে পাওয়া সেই মানসিক জোর আর আত্মবিশ্বাসই অন্বেষাকে পরিণত বয়সের আগেই একজন পরিণত শিল্পীর মতো মঞ্চে ও স্টুডিওতে পারফর্ম করার শক্তি দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: একের পর এক মৃ’ত্যু! সায়নী চক্রবর্তীর পর এবারে কোল খালি করে চলে গেলো আরেক মেয়ে! সন্তানহারা হলো আরও এক মা! চোখে জল নিয়ে জানালেন মলি চক্রবর্তী!

এই যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগটি করেছেন অন্বেষার মা। তিনি নিজে একজন গুণী সঙ্গীতশিল্পী হওয়া সত্ত্বেও, নিজের কেরিয়ার বা সঙ্গীত জীবনকে প্রফেশনালি আর এগিয়ে নিয়ে যাননি। মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য, তাঁর ভুলভ্রান্তি শুধরে দেওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানের খাতিরে মেয়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে ঘোরার জন্য তিনি নিজের স্বপ্নকে আড়ালে রেখেছিলেন। অন্বেষার বাবাও কর্মব্যস্ততার মধ্যেও মেয়ের এই সঙ্গীত সাধনাকে সবসময় আগলে রেখেছেন এবং মেয়ের সাফল্যে আজ একজন বাবার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কেউ পান না।

আজ অন্বেষা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান ধরেন, তখন শ্রোতাদের করতালির মাঝে মা-বাবার চোখের কোণে ভেসে ওঠে পুরনো দিনের সেই দিনরাত এক করা পরিশ্রমের স্মৃতি। মা-বায়ের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ বৃথা যায়নি, বরং মেয়েকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়ে তাঁরা এক পরম তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছেন। অন্বেষা ও তাঁর পরিবারের এই যৌথ লড়াই প্রমাণ করে যে, যেকোনো বড় সাফল্যের পেছনে কেবল একজন শিল্পীর একার সাধনা থাকে না, তার পেছনে জড়িয়ে থাকে একটা গোটা পরিবারের নীরব আত্মত্যাগ ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

Back to top button