উত্তম কুমার মদ্যপানের অভ্যেস করিয়েছিলেন? এত বছর পর মহানায়ককে নিয়ে একি বললেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Bengali Film Industry) বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)। সেই সাদা কালো ছবির সময় থেকে দর্শকের মনে ভালোবাসার জায়গায় তৈরি করে রয়েছেন অভিনেত্রী। একাধিক ছবিতে একাধিকবার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন বারবার।

প্রায় ৬০ বছর ধরে টলি পাড়ায় বিরাজমান তিনি। এত বছর শুধুই মন প্রাণ দিয়ে কাজ করে গিয়েছেন অভিনেত্রী। বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় বিভিন্ন ধারাবাহিকের দাপিয়ে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে নতুন কোন ধারাবাহিককে দেখা যাচ্ছে না তাকে। সেই নিয়ে ভীষণ মন খারাপ, শুটিং ফ্লোরে যেতে চান তিনি। অপরূপ সুন্দরী ছিলেন অভিনেত্রী। নায়ক থেকে পরিচালক এবং প্রযোজক প্রত্যেকেই তার চোখে তার হাসিতে ছিলেন মুগ্ধ।

সম্প্রতি দেজ পাবলিকেশনের তরফে প্রকাশিত হয়েছে তার বই সত্যি সাবিত্রী। যে বইটির লেখিকা ছিলেন খোদ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর জীবনের জানা-অজানা সব গল্পই লিখেছিলেন। সেই বইতেই সাবিত্রী নাকি নিজেই বলেছিলেন, মহানায়ক উত্তমকুমার সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে মদ্যপানে অভ্যস্ত করিয়েছিলেন। সাবিত্রীর বাবা শশধর চট্টোপাধ্যায় যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন সেই মদ খাওয়ার পরিমাণ পরিমিত ছিল এবং বাড়িতে মদ ঢুকতো না। পিতার মৃত্যুর পর সাবিত্রী যখন একপ্রকার অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন তখন থেকেই বাড়িতে মদের বোতলের প্রবেশাধিকার হয়েছিল। পিতৃবিয়োগের শোক নাকি মদ্যপানের আরও একটি অন্যতম কারণ ছিল।

অভিনেত্রী সেখানে লিখেছেন, ‘মনের শাসনে চলি মন যদি ভালো থাকে তাহলে আমি মদ ছুঁয়ে দেখিনি দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,এমনও হয়েছে। কিন্তু একদিন যখন দেখলাম,বুঝতে শিখলাম,হাজার মানুষের ভিড়েও আমার চারপাশটা সত্যিই শূন্য, নিজের বলতে কেউ নেই, সেই দিন থেকে মদ আমার নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠল। তবু একটা কথা হলফ করে বলছি ,চিরকাল আমি মদকে খেয়েছি মদ আমাকে কখনো খেতে পারে নি। আর মদ খেয়ে কখনো বেলেল্লাপনা করিনি।’

আরও পড়ুনঃ ‘বাবা রেগে গিয়ে আমায় চড় মারেন’- কেনো শ্যুটিং ফ্লোরে সবার সামনে মেয়ে চুমকি চৌধুরীর গায়ে হাত তুলেছিলেন অঞ্জন চৌধুরী!

তবে সত্যি কি এই ঘটনা ঘটেছিল, সাবিত্রী তাঁর আত্মজীবনী মূলক বইয়ে উত্তমকে নিয়ে নানা কথা লিখেছিলেন। সাবিত্রী নাকি উত্তমের প্রেমে এতটাই মজে ছিলেন যে অন্য কিছুই তাঁর চোখে পড়ত না। এমনকী, অনেকেই বলে থাকেন, উত্তমের প্রতি তাঁর ভালবাসাকে সম্মান দিতেই সাবিত্রী সারাজীবন সঙ্গীহীন থেকে গেলেন।

Back to top button