“টলিউডের থালা ফাঁকা…রাঘববোয়ালরাও খেতে পারছে না!” “সোহাগ সেন ৭৮-এ সিরিয়ালে…চপল ভাদুড়ীর শেষ জীবন বৃদ্ধাশ্রমে!”— টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন সুজয় প্রসাদ!

টলিউডের (Tollywood) বর্তমান পরিস্থিতি বা চিত্র, যাই বলা হোক না কেন মোটেই সন্তোষজনক জায়গায় নেই! করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই চিত্র যেন আরও খারাপ হয়েছে। বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই বিশ্ব সিনেমায় ভাটা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও বাংলা এখনও অক্ষম। বলিউড (Bollywood) ইন্ডাস্ট্রি এবং দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগত যখন চিরাচরিত ঘরানার বাইরে বেরিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যিক ছবির বিনিয়োগ বাড়ছে, বাংলায় এই চিত্রটা পুরোটাই উল্টো!
টলিউডের বর্ষীয়ান শিল্পী থেকে শুরু করে বর্তমানের জনপ্রিয় তারকারাও কাজ হারাচ্ছেন, পেশা বদল করতে হচ্ছে অনিচ্ছা সত্ত্বেও। অনেকের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, রাজ্য সরকারের কাছে হাত পেতে সাহায্যের আবেদন করতে হচ্ছে! শিল্পীরা আর এখন শিল্পের দাম বা প্রদর্শনের জায়গাটুকু পাচ্ছেন না। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা অজান্তে হারিয়ে গেছেন, তাদের খোঁজ পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রি রাখে না। এমনকি ছবির বিনিয়োগ কমেছে, দর্শক আর সিনেমাহলে যাচ্ছেন না।
এইসবের পেছনের মূল কারণ তথা ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপদেশ দিলেন ‘সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়’, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, “এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে রাঘববোয়ালরাই শুধু খেতে পাচ্ছে! অনেকেই তারা খেতে পায় না, পার্থক্যটা শুধু আমরা জানতে পারি না। শকুন্তলা বড়ুয়ার মতো শিল্পী আমাকে জানিয়েছিলেন, এক বছর ধরে তিনি কোনও কাজ পাচ্ছেন না। এখন কিন্তু শুধুমাত্র অভিনয়কেই পেশা করলে চলবে না।
এখন সময় এসেছে একটা বিকল্প পথ ভাবার।” তিনি আরও যোগ করলেন, “টালিগঞ্জ সবাইকে খাওয়াতে পারবে না আর! তাদের নিজেদেরই খাবার কমে গেছে, সাপ্লাই কমেছে। ‘সোহাগ সেন’ এর মত মানুষকে ৭৮ বছর বয়সে বাংলা সিরিয়ালের ফিরতে হলো কেন? পাশ্চাত্য হলে সোহাগ সেনকে মাথায় তুলে রাখত, ভারত কেন পারল না, বাংলা কেন পারল না? কেন ‘চপল ভাদুড়ী’র মতো একজন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বকে শেষ জীবন বৃদ্ধাশ্রমে কাটাতে হচ্ছে, রাজ্য সরকার কি করছে?”
আরও পড়ুনঃ মেলেনি দেখা করার অনুমতি…দ’গ্ধ অভিনেত্রীকে শেষবার দেখতে হাসপাতালের বাইরে সারাদিন কেঁদেছেন তাপস পাল!
বর্তমানের এই চিত্র নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বাংলা চলচ্চিত্র জগত একসময় যেখানে শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সম্মিলিত মঞ্চ ছিল, আজ সেখানে টিকে থাকা নিজেই বড় সাফল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শিল্পীরা কাজ পাচ্ছেন না, বিনিয়োগ নেই, আর দর্শকের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। এই সংকটময় অবস্থায় একমাত্র নতুন ভাবনা, প্রকৃত সহানুভূতি এবং সংগঠিত উদ্যোগেই টলিউড আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে — নচেৎ আরও অনেক ‘শকুন্তলা’ এবং ‘সোহাগ সেন’ হারিয়ে যাবেন অন্ধকারে।

