প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও মেলেনি সম্মান, চোর ভিখারি চরিত্রেই কেটেছে জীবন! শেষ জীবনের কঠিন সময় পাশে থাকেনি কেউ! কেমন ছিল সুনীল মুখোপাধ্যায়ের শেষ যাত্রা?

বিনোদন জগতের যে কোন বিভাগ এই বিশেষত অভিনয় দুনিয়ায় কেবল মূর্খ অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের দ্বারাই সাফল্য লাভ করে না। প্রতিটা গল্পের ক্ষেত্রেই মুখ্য চরিত্রের পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রেরও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। বর্তমানে এমনই এক চরিত্রের অভিনেতার কথা জানব যা অনেকের কাছেই অজানা। অভিনেতার নাম সুনীল মুখোপাধ্যায় (Sunil Mukhopadhyay)।
সুনীল বাবু এক সময়ের টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিল। এই অভিনেতাকে কোনদিনও সেই অর্থের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখতে না পেলেও বাংলার অনেক দর্শকেরা আজও মনে রেখেছেন। সাইড রোলে কখনো তিনি ভিখারি আবার কখনো বাড়ির কাজের লোক আবার কোন সময় মাতাল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
সিনেমা জগতের কিংবদন্তি এই অভিনেতা ১৯৪৬ সালে বাংলা যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। কম বয়সেই সপরিবারে সুনীল বাবু চলে আসেন কলকাতায়। প্রাথমিক জীবনে তিনি মঞ্চভিনয়ের মাধ্যমেই বিনোদন জগতে পা রাখেন। এরপর ধীরে ধীরে উৎপল দত্তের নাট্য দলে অভিনয় করতে শুরু করেন।

এরপর, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের পরিচালনায় ‘নিম অন্নপূর্ণা’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক করেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন মুখ্য চরিত্রে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হল ‘আবার অরণ্যে’, ‘খারিজ’, ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’, ‘কালবেলা’, ‘তাহাদের কথা’, ‘পার’ এবং আরও অনেক।
প্রসঙ্গত ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রথম সিনেমা ‘হীরের আংটি’তে চোরের ভূমিকায় অভিনয় করেন। চোর কিংবা বাড়ির কাজের লোকের ভূমিকায় অভিনয় করা ছাড়াও কমেডির চরিত্রেও অভিনয় করতে দেখা গেছে। সময়ের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে সুনীল বাবুকে পরবর্তীকালে টেলিভিশনে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুনঃ মিঠিঝোরায় বিরাট চমক! রাই অনির্বাণের জীবনে ছোট্ট সদস্য! সন্তানসম্ভবা রাই! প্রকাশ্যে ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো!
বড় বড় অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেও কোনোদিন আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখেননি সুনীল বাবু। স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে আজীবন ভাড়া বাড়িতেই দিন কাটিয়েছেন। বিনোদন জগত থেকে তেমন সম্মান না পেলেও জীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত অভিনয় করতে চেয়েছেন। কিন্তু, শরীরে টিবি রোগ বাসা বাঁধায় অবশেষে ২০১২সালে পরলোক গমন করেন।

