শৈশবের য’ন্ত্রণা মৃ’ত্যুর আগে পর্যন্ত ভুলতে পারেননি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়! কিংবদন্তি গায়িকার জন্মদিনে জেনে নিন তার জীবনের অজানা গল্প!

সালটা ছিল ১৯৩১, দিনটা ৪ অক্টোবর। কলকাতার ঢাকুরিয়ার ব্যানার্জি পাড়ায় জন্ম হলো বাংলার সংগীত জগতের এক কিংবদন্তি শিল্পীর। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন গানের ভীষণ অনুরাগী। তিনি আর কেউ নন সকলের প্রিয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (Sandhya Mukhopadhyay)। তার গানে মেতে উঠেছিল ৮ থেকে ৮০ সকলে। আজও কিংবদন্তি গায়িকার গান ভোলেনি কেউই। তবে খুব ছোটবেলায় একবার বিরাট বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

অল্প বয়সে দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ডাক্তাররা তখন প্রায় বাঁচানোর আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের জোরে ও চিকিৎসার ফলে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। আবার ১৭ বছর বয়সে এক বিরল ধরনের মাম্পসে আক্রান্ত হন সন্ধ্যা। এই রোগ সারলেও তার প্রভাব চিরস্থায়ী ক্ষতি করে দেয়। তাঁর ডান কান সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। আর কোনওদিনই তিনি সেই কানে শুনতে পাননি। পরপর এই ঘটনাগুলোতে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন গায়িকা তবে থেমে থাকেননি।

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রতিভা এবং সাধনায় এক কানে শুনেও কয়েক হাজার গান গেয়ে ইতিহাসে পাতায় জায়গা তৈরি করেছেন। মা-বাবার উৎসাহ এবং দাদা রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতচর্চার শুরু। আজ সেই সঙ্গে শিল্পীর জন্মবার্ষিকী। বেশ কয়েক বছর হল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আমাদের মাঝখান থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাকে আজও মনে রেখেছেন বাঙালি।

১৯৪৬ সালে সংগীতে পরীক্ষা দিয়ে তিনি প্রথম হন, আর পান ‘গীতশ্রী’ উপাধি। সেই থেকে তিনি হয়ে গেলেন ‘গীতশ্রী’ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তবে শুধুমাত্র বাংলায় নয় বলিউডে তিনি নিজের গানের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। শচীন দেব বর্মণ, অনিল বিশ্বাস, মদন মোহন—অনেক খ্যাতনামা সুরকারের সুরে গান করেন। ১৭টি হিন্দি ছবিতে প্লেব্যাক করার পরেও তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। উত্তম-সুচিত্রা এবং হেমন্ত-সন্ধ্যা জুটি হয়ে ওঠে বাঙালির আবেগ।

আরও পড়ুনঃ পরিবারের আরেক গোপন সত্যের মুখোমুখি পারুল! কলেজের প্রফেসরের সঙ্গে দাদুর গোপন সম্পর্কের কথা জেনে গেল সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জাতীয় পুরস্কার, বঙ্গবিভূষণ-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তবে জীবনের শেষ দিকে প্রস্তাবিত ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নিজের জীবনে অসংখ্য গান লিখে সম্মানিত হয়েছেন। এরপর অবশেষে ২০২২ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গায়িকা, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন শেষ জীবনে।

Back to top button