বিচ্ছেদের ভিড়েও অমলিন ১৫ বছরের ম্যাজিক! বিবাহবার্ষিকীতে অপরাজিতার জন্য ঋত্বিকের কলমে এক পৃথিবী প্রেম!

টলিউডের (Tollywood) গ্ল্যামার দুনিয়ায় যখন সম্পর্কের ভাঙাগড়া রোজকার হেডলাইন, সেখানে ঋত্বিক চক্রবর্তী (Ritwick Chakraborty) আর অপরাজিতা ঘোষ (Aparajita Ghosh) যেন এক শান্ত স্নিগ্ধ দ্বীপের মতো। ২০১১ সালের ২৪শে এপ্রিল তাঁদের চার হাত এক হয়েছিল। আজ যখন তাঁরা দাম্পত্যের ১৫টি বসন্ত পার করে ফেললেন, তখন তাঁদের রসায়ন দেখে মনে হয় ভালোবাসা আসলে টিকে থাকে অতি সাধারণ যাপনের গভীরতায়। সম্প্রতি নিজের বিবাহবার্ষিকীতে ঋত্বিক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ‘দশক শতক ধরে ধরে ঘরে পথে লোকালয়ে স্রোতে জনস্রোতে আমাকে কি একাই খুঁজেছ তুমি? আমি বুঝি তোমাকে খুঁজিনি!’ পর্দার ম্যাজিশিয়ান ঋত্বিকের বাস্তব জীবনের ম্যাজিশিয়ান যে অপরাজিতাই, এই পঙক্তিগুলো তারই প্রমাণ।
তাঁদের এই যাত্রাপথের শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। অঞ্জন দত্তর সেটে প্রথম আলাপ। তখন ঋত্বিক আজকের ‘তারকা’ হয়ে ওঠেননি, লড়ছেন নিজের জায়গা তৈরির জন্য। অপরাজিতাও তখন নিজের অভিনয় গুণে পরিচিতি পাচ্ছেন। সহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করলেও একে অপরের মন পড়তে তাঁদের দেরি হয়নি। ইন্ডাস্ট্রির ইঁদুরদৌড় বা খ্যাতির মোহ তাঁদের সম্পর্কে কোনোদিন ছায়া ফেলতে পারেনি। বরং শিল্প আর মননশীলতার এক অদ্ভুত মিল তাঁদের দুজনকে বেঁধে ফেলেছিল এক অদৃশ্য সুতোয়।
বেশ কয়েক বছর গোপনে প্রেম করার পর ২০১১ সালে কোনো জাঁকজমক ছাড়াই আইনি মতে বিয়ে সেরেছিলেন এই জুটি। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য নয়, বরং ঘরোয়া আড্ডাই ছিল তাঁদের পছন্দের। আজ তাঁদের সেই সংসারে পূর্ণতা নিয়ে এসেছে ছোট্ট উপমন্যু। কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকলেও ঋত্বিক আর অপরাজিতা কোনোদিন তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলোয় সঁপে দেননি। আর হয়তো সেই নিভৃত যাপনই তাঁদের সম্পর্ককে অন্যদের থেকে আলাদা আর মজবুত করে রেখেছে।
আজকের এই ‘ইনস্ট্যান্ট’ যুগে, যেখানে বিয়ের এক-দুই বছরের মাথায় আইনি বিচ্ছেদ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়মিত ঘটনা, সেখানে ঋত্বিক-অপরাজিতা এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব। শুটিংয়ের ব্যস্ততা সামলে বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলেই তাঁরা স্রেফ একে অপরের বন্ধু হয়ে ওঠেন। টলিপাড়ার হাজারো বিচ্ছেদের ভিড়ে এই দম্পতি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, একে অপরের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর অটুট বিশ্বাস থাকলে যেকোনো ঝড় কাটিয়ে দীর্ঘ পথ চলা যায়।
আরও পড়ুনঃ সান্যাল বাড়িতে ঋত্বিকের বিয়েতে পারুলের মোক্ষম চাল! সব সত্যি ফাঁস করে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে রুক্মিণী ঋত্বিক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরিশেষে, ঋত্বিকের ওই কাব্যিক বার্তাই যেন তাঁদের সম্পর্কের সারকথা। খুঁজে পাওয়ার আসল আনন্দ তো দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। বর্তমানের অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে ঋত্বিক-অপরাজিতার এই পনেরো বছরের শান্ত পথচলা আমাদের শেখায়— ভালোবাসা মানে কেবল পাশাপাশি থাকা নয়, ভালোবাসা মানে একে অপরের অস্তিত্বের গভীরে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। বিচ্ছেদের জয়জয়কারের মাঝে এই জুটি আজও আমাদের বিশ্বাস করায় যে, ‘সুখে থাকা’ কোনো কঠিন অঙ্ক নয়, বরং সহজ বন্ধুত্বের এক নিরন্তর অনুশীলন।
View this post on Instagram

