সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম হেনস্থার মুখে সুকান্ত! বিয়ের পরেই নেটিজেনদের মুখে শুনতে হল ‘এ কেমন বর’ ‘ নাকি অন্য কিছু!’ বিয়ের পরের দিনই কি করে বসলেন সুকান্ত কুণ্ডু?

টেলিপাড়ার (Bengali Television) অত্যন্ত চেনা মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনন্যা গুহ (Ananya Guha) জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী, এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুকান্ত কুণ্ডুর সাথে গাঁটছড়া বাঁধলেন তিনি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ আইনি বিয়ে সারলেও, সম্প্রতি ফাল্গুনী সন্ধ্যায় বৈদিক রীতি মেনে ধুমধাম করে সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন হলো তাঁদের। লাল বেনারসি আর ট্র্যাডিশনাল গয়নায় অনন্যাকে যেমন অপরূপ লাগছিল, তেমনই সুকান্তও ধরা দিয়েছিলেন সাবেক সাজে। তবে বিয়ের এই রঙিন উৎসবের মাঝেই এক অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী হলেন এই নবদম্পতি।
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অনন্যা গুহ এক অতি পরিচিত নাম। খুব অল্প বয়সেই অভিনয় জগতে পদার্পণ করেছিলেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করার পর ‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিকের ‘মুন্নি’ চরিত্রটি তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর ‘মিঠাই’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’র মতো একের পর এক সফল মেগা সিরিয়ালে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে সুকান্ত কুণ্ডু, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর দাপট চোখে পড়ার মতো। অনন্যার দিদি অলোকানন্দার মাধ্যমেই তাঁদের প্রথম আলাপ হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়।
অভিনয় পেশার পাশাপাশি অনন্যা এবং সুকান্ত দুজনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয়। ইউটিউবে তাঁদের নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে, যেখানে তাঁরা দৈনন্দিন জীবনের নানা ছোট-বড় মুহূর্ত ব্লগের মাধ্যমে শেয়ার করেন। দর্শকদের সাথে এই নিবিড় সংযোগের কারণেই তাঁরা হয়ে উঠেছেন ‘পাওয়ার কাপল’। বিয়ের আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে আশীর্বাদ, সবটাই তাঁরা তুলে ধরেছিলেন ক্যামেরার সামনে। অনুরাগীরাও তাঁদের এই ডিজিটাল রসায়নকে এতদিন দু-হাত ভরে ভালোবাসা জানিয়ে এসেছেন।
কিন্তু সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে শুরু হয় চরম বিতর্ক। সুকান্ত তাঁর ফেসবুক পেজে বিয়ের একটি আবেগপ্রবণ ‘বিদায়’ মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে একদল নেটিজেন সুকান্তকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন। সুকান্তর গলার স্বর এবং কথা বলার ধরন নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করার পাশাপাশি তাঁকে ‘ছক্কা’ বা ‘হিজড়ে’-র মতো অত্যন্ত আপত্তিকর বিশেষণে বিদ্ধ করা হয়। এই ধরণের সাইবার বুলিং বা আক্রমণ মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এক নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি পালিয়ে যেতে শিখিনি তাই আ’ত্মহত্যা করতে পারিনি, কিন্তু…’ হাসিমুখের আড়ালে জমে রয়েছে যন্ত্রণা! কেন এমন বললেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা?
তবে ট্রোলিং এবং সমালোচনা এই জুটির কাছে নতুন কিছু নয়। এর আগেও বহুবার নানা কারণে তাঁদের কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু অনন্যা এবং সুকান্ত বরাবরই এই ধরণের নেতিবাচকতাকে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, অন্যের মন্তব্যের চেয়ে নিজেদের ভালোবাসা এবং কর্মজীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নেটিজেনদের একাংশ এই ধরণের কুৎসিত আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তবুও এক শ্রেণীর মানুষের এই মানসিকতা আবারও প্রমাণ করল যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌজন্যবোধ আজ কতটা বিপন্ন।

