‘ছেলেটা খুব ভালো কাটা জানতো!’ এত ভালো সাঁতারু তাও জলে ডুবে মৃ’ত্যু? অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কারণ? জোরালো হচ্ছে তদন্তের দাবি!

টলিউড (Tollywood) তথা বাঙালি দর্শক মহলে শোকের ছায়া। ওড়িশার তালসারিতে একটি মেগা সিরিয়ালের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের জলে ডুবে প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee)। রবিবার বিকেলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে অগণিত অনুরাগী। জানা গেছে, সমুদ্রের হাঁটু সমান জলে একটি দৃশ্যের চিত্রায়ণ করার সময় আচমকাই তিনি ও তাঁর সহ-অভিনেত্রী খাদে পড়ে যান। সহ-অভিনেত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাহুলকে যখন জল থেকে তোলা হয়, ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রাহুলের প্রয়াণের খবর শিলিগুড়ির অরবিন্দপল্লীর বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সেখানে তাঁর নিজের মাসি বিজয়া মজুমদার এই খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি জানান, রাহুল খুব ভালো সাঁতার জানতেন। তাই জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হতে পারে—এটি পরিবারের কাছে এক চরম অবিশ্বাস্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুটিং সেটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেখানে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, ওই স্থানে শুটিং করার জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে রাহুলের মাসি অশ্রুসজল চোখে জানান, কাজের হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও রাহুল সময় পেলেই শিলিগুড়িতে মাসির কাছে ছুটে আসতেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কাছে এই বাড়িটি ছিল এক পরম আশ্রয়ের মতো। রাহুল শুধুমাত্র একজন প্রতিভাধর অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি খুব সুন্দর গান গাইতেন এবং নিয়মিত লেখালিখিও করতেন। সোমবারই তাঁর কলকাতার দিদির বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই দিনটাই শেষ পর্যন্ত পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন দিন হয়ে উঠল। ঘরের কোণে রাহুলের প্রিয় ফাঁকা চেয়ারটি এখন শুধুই তাঁর হাসিমুখ আর আড্ডার স্মৃতি বহন করছে।

খাবারের প্রতি রাহুলের ছিল বিশেষ টান। বিশেষ করে মাসির হাতের রান্না করা মাংস খেতে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। শিলিগুড়ি আসার আগে তিনি ফোনে আবদার করতেন যেন তাঁর জন্য মাংস এবং প্রিয় মাগুর মাছ রান্না করে রাখা হয়। মিষ্টির প্রতিও তাঁর অগাধ ভালোবাসা ছিল। মাসি বিজয়া দেবীর কথায়, “রাহুল যেখানেই যেত, বাড়ির রান্না ছিল ওর সবচাইতে প্রিয়। ও ছিল এক বিরাট মনের ফ্যামিলিয়ার ছেলে, সবার সাথে খুব সহজে মিশতে পারত।” তাঁর এই অকাল প্রয়াণে পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসাথে দেখার শেষ সুযোগ…’ প্রায় দেড় মাস আগেই নিজের মৃ’ত্যুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাহুল? সামনে এলো নতুন তথ্য!

২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা সিনেমা জগতে ঝড় তুলেছিলেন রাহুল। এরপর অসংখ্য চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ওয়েব সিরিজে তাঁর অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে। সাম্প্রতিককালে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিয়ালের কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া টলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলার অভিনয় জগত হারালো এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।

Back to top button