অভিনয় নয়, গান দিয়েই শুরু! রজতাভ দত্তের জীবনে ‘কুইনাইন’! জেনে নিন সেই অজানা অধ্যায়!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে (Tollywood) রজতাভ দত্ত (Rajatava Dutta) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নাম। মঞ্চ থেকে শুরু করে বড় পর্দা, এমনকি হাল আমলের ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ স্পষ্ট। খলনায়কের চরিত্রে যেমন তিনি হাড়হিম করা অভিনয় করতে পারেন, তেমনই কমেডি চরিত্রে দর্শককে হাসিয়ে লুটিয়ে পড়তেও বাধ্য করেন। অভিনেতার এই বহুমুখী প্রতিভা এবং অভিনয়ের প্রতি অসামান্য নিষ্ঠা তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে রজতাভ দত্ত তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাপথের ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতার শুরুটা যে কেবল অভিনয় দিয়ে ছিল না, বরং মিউজিক ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশ ঘটেছিল, সেই অজানা অধ্যায় উঠে এসেছে এই আলোচনায়। ৯ জন বন্ধুর তৈরি সেই ব্যান্ডের নাম ছিল ‘কুইনাইন’। ব্যান্ডের নিজস্ব ২৭টি গান ছিল এবং তাঁরা উত্তরবঙ্গ সফরসহ বিএফজেএ-র মতো বড় মঞ্চেও পারফর্ম করেছিলেন। রজতাভ জানান, সেই সময়ে মিউজিক থেকে খুব সামান্য আয় হলেও বন্ধুদের সঙ্গে সেই সৃজনশীল সময়টি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি ছিল।
অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে রজতাভ দত্তের জীবন ছিল একদম ভিন্ন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর একটি বেসরকারি সংসংস্থায় চাকরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু ধরাবাঁধা কর্পোরেট জীবনে তিনি ভীষণভাবে ‘সাফোকেশন’ বা দমবন্ধ অনুভব করতেন। পডকাস্টে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, সৃজনশীলতার তাগিদেই তিনি সেই নিশ্চিত আয়ের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে তিনি স্থির করেছিলেন, যদি বাঁচতে হয় তবে এই শিল্পকে ভিত্তি করেই বাঁচবেন। এরপরই তিনি গ্রুপ থিয়েটারে নিজেকে সঁপে দেন, যেখানে পকেটের পয়সা খরচ করে পোস্টার মারা থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রির কাজও তাঁকে হাসিমুখে করতে হয়েছে।
রজতাভর চলচ্চিত্র জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক তপন সিনহা। স্বপ্নসন্ধানী দলের ‘যদুবংশ’ নাটকটি দেখতে গিয়ে পরিচালকের জহুরির চোখ চিনে নিয়েছিল এই প্রতিভাকে। তপন সিনহাই তাঁকে ‘হুইলচেয়ার’ ছবিতে প্রথম একটি নির্বাক চরিত্রে সুযোগ দেন। যদিও সেই চরিত্রে তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এরপর ‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরবর্তীকালে সোহাগ সেনের নাট্যদলে অভিনয়ের সময় অপর্ণা সেন তাঁকে ‘পারমিতার একদিন’-এর জন্য নির্বাচন করেন। এমনকি মিঠুন চক্রবর্তীর সুপারিশে ‘বারুদ’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাণিজ্যিক বাংলা ছবির জগতে এক অপরিহার্য নাম হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুনঃ মেয়ের ৭ নম্বর বিয়েতেও মায়ের মুখে হাসি! ছেলের প্রথম বিয়েতেই মুখ শুকিয়ে গেল শুভাশিসের মায়ের? ছেলের বউকে নিয়ে খুশি নন সুস্মিতা রায়ের শাশুড়ি? দাবি দর্শকদের!
বাংলা ছবির গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডের মাটিতেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন রজতাভ। ২০০৮ সালে বিশাল ভরদ্বাজের ‘কামিনে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে রীতিমতো অডিশন দিতে হয়েছিল। এরপর ‘এক থি ডাইন’-এর মতো ছবিতেও তিনি কাজ করেন। অভিনেতা জানান, একসময় হিন্দি সিনেমায় বাঙালিদের যে ধরনের ‘স্টেরিওটাইপ’ বা হাস্যকর চরিত্রে দেখানো হতো, ২০০৮ সালের পর থেকে সেই ধারায় বদল আসতে শুরু করে এবং বাঙালি অভিনেতারা সেখানে সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেতে শুরু করেন। মজার বিষয় হলো, কাজের প্রতি এতটাই একনিষ্ঠ ছিলেন যে, একটি বড় হিন্দি প্রজেক্টের প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র আগে থেকে কথা দেওয়া একটি বাংলা ছবির শুটিংয়ের ডেট ছিল বলে। সবশেষে উঠে আসে তাঁর চরম পেশাদারিত্বের (Professionalism) কথা, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয়।

