‘আমরা ব্রা-প্যান্টি-ক’নডম রোজ লোকের সামনে কাচছি!’ বাংলা সিনেমার দুর্দিন নিয়ে সোজাসাপ্টা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

বর্তমানে টলিউডের (Tollywood) অস্থির পরিস্থিতি এবং অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অদম্য অভিনয়শৈলী এবং স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত স্বস্তিকা বরাবরের মতোই কোনো রাখঢাক না করে সরাসরি আঙুল তুলেছেন ব্যবস্থার দিকে। টলিউডের অন্যতম সাহসী এই অভিনেত্রী কেবল পর্দার চরিত্রেই নয়, বাস্তব জীবনেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পিছুপা হন না। সম্প্রতি তাঁর মুক্তিপ্রতিক্ষিত সিনেমা ‘বিবি পায়রা’-র প্রচারে এসে তিনি বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির এক কদর্য রূপ জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, বর্তমানে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের নোংরা কাদা ছোড়াছুড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মানুষের সামনে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। একটি ইংরেজি প্রবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের “নোংরা জামাকাপড়” এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কার করছি। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, আমরা এখন আমাদের ব্রা, প্যান্টি থেকে শুরু করে কনডম বা স্যানিটারি ন্যাপকিন সবই যেন প্রতিদিন মানুষের সামনে কাচছি এবং ডেকে ডেকে দর্শকদের দেখাচ্ছি। তাঁর মতে, নিজেদের মধ্যে এই দলাদলি এবং একে অপরকে ছোট করার প্রবণতা দর্শকদের সিনেমার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং শিল্পী হিসেবে তাঁদের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রির এই সংকটের মুহূর্তে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বস্তিকা। রাহুল প্রধানের মৃত্যু প্রসঙ্গে সৌরভের “কেন জলে নেমে শুটিং করা হয়” বা “বঞ্জি জাম্পিংয়ের মতো কাজ কেন করা হয়” জাতীয় মন্তব্যে ভীষণ চটেছেন অভিনেত্রী। স্বস্তিকা বলেন, সৌরভের মতো একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের উচিত ছিল মন্তব্য করার আগে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিকূলতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া। তিনি মনে করেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় একজন মহাতারকা এবং তিনি সম্ভবত জানেনই না যে সাধারণ অভিনেতাদের ঠিক কতটা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। ক্রিকেটের মাঠ আর লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগত যে সম্পূর্ণ আলাদা, সেই পার্থক্যটিও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রার সাথে সাধারণ শিল্পীদের তুলনা করে স্বস্তিকা আরও বলেন যে, মহারাজ সম্ভবত কোটি টাকার পারিশ্রমিক পান এবং সারাদিন এসি ফ্লোরে শুটিং করেন, তাই তাঁর পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় কেন একজন সাধারণ অভিনেতাকে পেটের তাগিদে বা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলের নিচে শুটিং করতে হয়। স্বস্তিকার ভাষায়, সৌরভ ক্রিকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে পারেন কিন্তু স্টুডিও পাড়ার “টয় শুটিং” বা আউটডোরে সেফটি মেজারের অভাব নিয়ে তাঁর ধারণা নেই। একজন মৃত মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র সমবেদনা না দেখিয়ে কেবল তাত্ত্বিক কথা বলাকে স্বস্তিকা “মূর্খামি” বলে অভিহিত করেছেন এবং শিল্পীদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কঠোর বিরোধিতা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ টিআরপির লড়াইয়ে এগিয়ে জি বাংলা! শীর্ষে জি-এর জোড়া মেগা! দেখে নিন এই সপ্তাহের দুর্ধর্ষ টিআরপি তালিকা!
স্বস্তিকা ইন্ডাস্ট্রির একতার অভাব নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, বর্তমানে কোনো অঘটন ঘটলে পরিচালক বা প্রযোজকরা দায় নিতে চান না এবং কেউ বিপদে পড়লে অন্য কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায় না। বরং রিকশাচালক বা সাধারণ হকারদের মধ্যেও যে পরিমাণ ঐক্য দেখা যায়, টলিউডের মতো গ্ল্যামার জগতে তার লেশমাত্র নেই। এই অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তিনি দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখেন, কারণ একমাত্র ভালো কাজই পারে শিল্পীদের এই গ্লানি থেকে মুক্তি দিতে। স্বস্তিকার এই স্পষ্টবাদিতা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে।

