‘ওখানে অনেক মশা…’ ‘যে যা খুশি বলতে পারে, তাতে…’ ‘ওর হয়তো মনে হয়েছে ওখানে থাকতে যোগ্যতা লাগে…’ ‘মানুষ কোথায় থাকবে তা যোগ্যতা দিয়ে বিচার হয়?’ রচনার আরবানা-মন্তব্যের পাল্টা জবাব অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জির!

সম্প্রতি কলকাতার অন্যতম বিলাসবহুল আবাসন ‘আরবানা’ সোসাইটিতে থাকা এবং সেখানকার বাসিন্দা হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে একটি মন্তব্য করে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা ব্যানার্জী (Rachna Banerjee)। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, যে কেউ চাইলেই এই অভিজাত সোসাইটিতে থাকতে পারেন না, সেখানে থাকার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা বা মানদণ্ডের প্রয়োজন হয়। রচনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়া থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের অন্দরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মিডিয়া চ্যানেল ও বিভিন্ন নিউজ আর্টিকেলে এই বক্তব্যকে ঘিরে ট্রোলিং ও নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষের বাসস্থান বা আর্থিক ক্ষমতাকে তিনি এভাবে ‘যোগ্যতা’র মাপকাঠিতে বিচার করেন কী করে?
রচনার এই মন্তব্য যখন টলিপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, ঠিক তখনই এই প্রসঙ্গে নিজের স্পষ্ট মতামত জানিয়ে লাইমলাইটে চলে এসেছেন জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জী। রচনা ব্যানার্জী এবং সুজয় প্রসাদ দুজনেই ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের চেনা মুখ এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা একে অপরের বেশ পুরনো বন্ধু। তবে বন্ধুত্ব এক জায়গায় আর আদর্শ অন্য জায়গায় সেটাই প্রমাণ করে দিলেন অভিনেতা। রচনার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুজয় প্রসাদের প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি বন্ধুত্বের খাতিরে চুপ না থেকে নিজের ভিন্ন ও স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
অভিনেতা সুজয় প্রসাদ সরাসরি রচনার নাম করে কোনো কড়া বা বিস্ফোরক আক্রমণ না করলেও, তাঁর বক্তব্যের মূল ভাবনাটিকে একেবারেই সমর্থন করেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মানুষ কোথায় থাকবেন বা না থাকবেন, তা যোগ্যতা দিয়ে কীভাবে বিচার হতে পারে? অভিনেতার কথায়, “যোগ্যতা কী হিসেবে বিচার হয় এবং এটি কোন মাপকাঠিতে মাপা হয়, তা আমার জানা নেই।” তিনি মনে করেন, মানুষের থাকার জায়গা বা পছন্দকে কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক বা আর্থিক কাঠামোর ‘যোগ্যতা’ দিয়ে বেঁধে দেওয়া যায় না এবং এই ধরণের চিন্তাভাবনা একেবারেই অমূলক।
কথা প্রসঙ্গে অভিনেতা আরবানার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সংযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আরবানায় তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকেন এবং সেই সূত্রে সেখানে তাঁর মাঝেমধ্যেই যাতায়াত রয়েছে। তবে সেখানে বন্ধুদের বাড়ি যাওয়া আর নিজে সেখানে থাকার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। সুজয় প্রসাদ সাফ জানিয়ে দেন, “ওখানে ফ্ল্যাট নেওয়ার কথা আমি কোনদিনও ভাবব না। আমার যদি কখনো অনেক পয়সাও হয়, তাও আমি সেখানে কোনোদিন ফ্ল্যাট কিনব না। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আভিজাত্য বা বিলাসবহুল জীবনযাত্রার অন্ধ অনুকরণে তিনি বিশ্বাসী নন।
আরও পড়ুনঃ ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কন*ডম!’ ‘এই ঘৃণ্য জিনিস নিয়ে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে!’ ‘শিক্ষা আর মূল্যবোধের চরম অবনতি হচ্ছে সমাজে!’ তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয় দেখে বিরক্ত মমতা শঙ্কর! এমন অ’শালীন ঘটনা নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?
পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিনেতা সুজয় প্রসাদ অত্যন্ত মার্জিত ও কৌশলীভাবে রচনার এই ‘যোগ্যতা’র তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি রচনার বিরুদ্ধে কোনো কটু কথা বলেননি, বরং জানিয়েছেন যে রচনা তাঁর পুরনো বন্ধু এবং সে ঠিক কী পরিপ্রেক্ষিতে এই কথা বলেছে তা তাঁর জানা নেই। তবে রচনার আসল উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, সুজয় প্রসাদের এই যুক্তিপূর্ণ ও সংযত প্রতিক্রিয়া টলিপাড়ায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। কোনো কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করেও যে আদর্শগত অমিল প্রকাশ করা যায় এবং রচনার মতো তারকাদের এমন মন্তব্য যে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না, সুজয় প্রসাদের কথা থেকেই তা পরিষ্কার বোঝা গেল।

