‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কন*ডম!’ ‘এই ঘৃণ্য জিনিস নিয়ে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে!’ ‘শিক্ষা আর মূল্যবোধের চরম অবনতি হচ্ছে সমাজে!’ তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয় দেখে বিরক্ত মমতা শঙ্কর! এমন অ’শালীন ঘটনা নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?

মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) হলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের তথা বাঙালি সংস্কৃতির অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সুপরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে যেমন একজন অসাধারণ নৃত্যশিল্পী, তেমনই অন্যদিকে একজন অত্যন্ত গুণী ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী। কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর এবং অমলা শঙ্করের সুযোগ্য কন্যা মমতা শঙ্কর সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো বিশ্ববরেণ্য পরিচালকদের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের অনবদ্য অভিনয় এবং মার্জিত জীবনবোধের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র ও সমাজ জীবনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সমসাময়িক সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মের কিছু নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। সমাজে শিক্ষার মান ও নৈতিকতার পরিবেশ নিয়ে কথা বলার সময় সঞ্চালক বা ইন্টারভিউয়ার তাঁকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্ন করেন। অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বর্তমান যুগে যেখানে মানুষ এত পড়াশোনা করে শিক্ষিত হচ্ছে, সেখানে স্কুল ও কলেজের কাছাকাছি বেডরুমের জিনিসপত্র বা কন্ডোম পাওয়ার মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। একজন সিনিয়র ব্যক্তিত্ব এবং সমাজ সচেতন শিল্পী হিসেবে এই বিষয়টি তাঁর কাছে ঠিক কতটা কুরুচিকর বা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
সঞ্চালকের এই প্রশ্নটি শুনে অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর নিজের তীব্র ক্ষোভ, বিরক্তি এবং গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেন। অভিনেত্রী জানান যে, এই ধরনের অত্যন্ত কুৎসিত ও কুরুচিকর বিষয় নিয়ে কথা বলতেও তাঁর চরম ঘৃণা বোধ হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সমাজ আজ যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং চারপাশের পরিবেশ যেভাবে কলুষিত হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতেও তাঁর ভালো লাগছে না। এই সামাজিক পতন বা আধুনিকতার নামে চলা নোংরামি যে কোনো সুস্থ ও ও বিবেকবান মানুষের মনে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করতে বাধ্য, তা অভিনেত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে পরিষ্কার ফুটে ওঠে।
এই বিষয়ের ওপর নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে অভিনেত্রী জানান যে, বর্তমান সমাজে শিক্ষা ব্যবস্থার এবং ‘শিক্ষা’ শব্দটির একটি মস্ত বড় ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, আজকাল বাবা মায়েরা ভাবছেন ছেলেমেয়েদের কেবল বড় বড় নামী স্কুল-কলেজে পাঠালেই বা উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করালেই তারা প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে উঠছে। কিন্তু সমাজ যেভাবে নৈতিক দিক থেকে অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে, তাতে কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা বা সার্টিফিকেট অর্জন করা যে মোটেও আসল শিক্ষা নয়, সেই রূঢ় সত্যটিই আজ আমাদের সামনে বারবার প্রমাণিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ খেয়ার সামনে সায়ন্তনের আসল রূপ ফাঁস করল উজি! দুর্জয় ঘোষালের ভয়ঙ্কর হুংকার! দুর্জয়-সায়ন্তনের নতুন চালে কি ছারখার হবে ব্যানার্জি বাড়ি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
প্রকৃত শিক্ষার আসল সংজ্ঞা তুলে ধরে মমতা শঙ্কর বলেন, শিক্ষা মানে শুধু স্কুল-কলেজের ডিগ্রি বা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করা নয়। তাঁর মতে, প্রকৃত শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের বেসিক শিক্ষা অর্থাৎ শৈশব থেকে পাওয়া পারিবারিক ও মানসিক সংস্কার এবং সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের মধ্যে যদি মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ এবং ভালো-মন্দের তফাত বোঝার মতো নৈতিক শিক্ষা না থাকে, তবে সেই বাহ্যিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো মূল্যই সমাজ গঠনে কাজে আসে না। ভালো মানুষ হওয়ার এই শিক্ষাই সমাজকে কুরুচিকর অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

