‘ও যদি কোনদিনও অন্য কারোর সাথে সম্পর্কেও যায় আমার আপত্তি নেই!’ ‘ইষ্টি কুটুম’-এর ‘বাহামণি’ সুদীপ্তাকে নিয়ে, স্বামী স্বর্ণ শেখরের বি’স্ফোরক মন্তব্য! তবে কী চার বছরের দাম্পত্যে এসেছে তিক্ততা?

বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty)। একজন দক্ষ অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সুদীপ্তার অভিনয়ের হাতেখড়ি থিয়েটারের মাধ্যমে। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ইষ্টি কুটুম-এ সাঁওতাল কন্যা ‘বাহামণি’র চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং নিখুঁত বাচনভঙ্গি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি বড় পর্দাতেও কাজ করেছেন, যার মধ্যে পরিচালক স্বর্ণ শেখর জোয়ার্দারের ‘তেঁতো’ সিনেমাটি উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর পরিচালক স্বর্ণ শেখর জোয়ার্দার-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দীর্ঘদিন হলো অভিনেত্রীকে দেখা যাচ্ছে না টিভির পর্দায়। বর্তমানে তিনি এবং তাঁর স্বামী যৌথভাবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ী অঞ্চলে একটি নিজস্ব হোমস্টে পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি দীর্ঘদিন বাদে ক্যামেরার সামনে এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন এই দম্পতি। সেখানেই জীবনের নানান মুহূর্তের কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁরা প্রায় ১০ বছর ধরে একে অপরের সাথে সম্পর্কে ছিলেন। সুদীপ্তা মজা করে বলেন, এত বছর ধরে প্রেম করার পর মনে হয়েছিল এবার একটা আইনি স্বীকৃতি দরকার। কোনো জাঁকজমক বা বড় উৎসবের চেয়ে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নৈহাটিতে স্বর্ণর বাড়িতে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য এবং হাতেগোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উপস্থিতিতে এই রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।
বর্তমান সময়ে যেখানে ঠুনকো কারণে সম্পর্কের বিচ্ছেদ আর আস্থার অভাব নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে পরিচালক স্বর্ণ শেখর জোয়ার্দারের এই বক্তব্যটি এক গভীর ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ পেশ করে। তিনি সুদীপ্তার প্রতি তাঁর যে অগাধ বিশ্বাসের কথা বলেছেন, তা কেবল রোমান্টিক প্রেম নয়, বরং এক পরম মানসিক স্থিরতার পরিচয় দেয়।
তিনি জানেন যে সুদীপ্তার হৃদয়ে তাঁর স্থানটি অদ্বিতীয় এবং স্থায়ী। সম্পর্কের এই গভীরতা যদি থাকে, তবে বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন বা অন্য কোনো সম্পর্কের আগমনও সেই মূল ভিত্তিটিকে টলাতে পারে না। স্বর্ণ বলেন, ‘আমি জানি আমি ওর জন্য বিশেষ তাই ও যদি কোনদিনও অন্য কারোর সাথে সম্পর্কেও যায় তাহলেও আপত্তি নেই, আমি জানবো ওর মনের আমার জন্য যেই জায়গাটা ছিল সেটাই থাকবে।’
আরও পড়ুনঃ হাতেনাতে ধরা পড়ল বর্ষা! বড় ঠাম্মীর সামনে ফাঁস হলো বর্ষার নাটকের আসল রূপ!
স্বর্ণ মনে করেন, জোর করে কাউকে ধরে রাখার নাম ভালোবাসা নয়। সুদীপ্তার প্রতি তাঁর বিশ্বাস এতটাই অটুট যে তিনি সম্পর্কের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। তাঁরা একে অপরের পেশা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রচণ্ড সম্মান করেন। একজন পরিচালক এবং একজন অভিনেত্রীর সম্পর্কের মধ্যে যে ইগো বা রেষারেষি থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে তা নেই। বরং একে অপরের সমালোচক হয়েও তাঁরা দিনশেষে প্রিয় বন্ধু।

