‘যে মহিলা ছোট বাচ্চার সাথে ওমন ব্যবহার করতে পারে সে মহিলা… আমার খুব সমস্যা হয়েছিল!’ শুটিং করতে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে সুদীপ্তা চক্রবর্তী! কি হয়েছিল সেই দিন?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম শক্তিশালী এবং বহুমুখী প্রতিভাবান অভিনেত্রী হলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty)। কেবল রূপালি পর্দায় নয়, নাটক এবং টেলিভিশন তিন মাধ্যমেই তিনি নিজের অভিনয়ের অসামান্য দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ক্যারিয়ার শুরু করা সুদীপ্তা আজ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নির্ভরযোগ্য নাম।

ঋতুপর্ণ ঘোষের কালজয়ী সিনেমা ‘বাড়িওয়ালী’তে মালতী চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেরা পার্শ্বচরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাইলফলক। সুদীপ্তা শুধু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি কলকাতার থিয়েটার জগতের এক সুপরিচিত মুখ। তাঁর বাচনভঙ্গি এবং মঞ্চে উপস্থিতির কারণে তিনি নাটকপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

সম্প্রতি অভিনেত্রী নিজের জীবনের এক চরম অভিজ্ঞতার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। অভিনেত্রী শুটিং করতে গিয়ে নানান রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় কখনো খারাপ, কখনো ভালো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তী সময়ে অভিনেতা অভিনেত্রীরা শেখার সুযোগ পান। একবার সেরকমই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিলেন শুটিং করতে গিয়ে।

সম্প্রতি একটি পড কাস্ট শোতে এসে অভিনেত্রী জানিয়েছেন নিজের সেই চরম অভিজ্ঞতার কথা। অভিনেতা অভিনেতাদের প্রায় সময়ই নানান ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। কখনো নেগেটিভ, কখনো পজিটিভ। সুদীপ্তাকেও আমরা দুই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি। যদিও বেশিরভাগ সময় ইতিবাচক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ বেহালায় ফ্ল্যাট থেকে গায়িকার র’ক্তাক্ত দেহ উদ্ধার! গায়ে একাধিক ক্ষ’ত! গায়িকাকে গলা কেটে খু’ন! শিল্পীর মৃ’ত্যুতে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগত!

তবে ধনঞ্জয় ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে অভিনেত্রীকে ভীষণ কঠিন একটি চরিত্র অভিনয় করতে হয়েছে। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত সিনেমা ধনঞ্জয়-এ তিনি নিগৃহীতা কিশোরী হেতাল পারেখের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পডকাস্টে সুদীপ্তা জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের একটি বাস্তব এবং স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিনয় করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। হেতালের মায়ের চরিত্রটি ছিল শোকাতুর এবং একইসাথে বিচার পাওয়ার জন্য মরিয়া। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে এই মহিলা হাসতে পারে না। এই সিনেমাটা করতে গিয়ে ভীষণ অসুবিধা হয়েছিল। আমি সাধারণত কোন ছবিতে অভিনয় করতে কোন চরিত্র অভিনয় করতে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করি না কিন্তু ধনঞ্জয় ছবিতে আমার চরিত্রটা রক্তমাংসের একজন জীবিত মানুষ-এর চরিত্র ছিল আমার পুরো চরিত্রটা শুনে মনে হয়েছিল এই মহিলা হাসতে পারেন না। যে নিজের অত ছোট মেয়ের সঙ্গে ওরম ব্যবহার করতে পারে, সে নিশ্চয়ই হাসতে পারে না। তাই আমার আশেপাশে শুটিংয়ের সময় যারা থাকতো আমার মেকআপ ম্যান, আমার হেয়ার স্টাইলিশ সবাইকে বলতাম এখানে কোন হাসির গল্প করবে না। হাসলে মুখে অটোমেটিক একটা ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন চলে আসে আর সেটা আমি চাইছিলাম না।’

Back to top button