‘আমি দুটো বিয়ে করেছি…’ অকপট স্বীকারোক্তি সুদীপার ! তবে জীবনের গল্পে অগ্নিদেবই একমাত্র সঙ্গী? সঞ্চালিকার প্রথম স্বামী কে?

এক সময় টেলিভিশনের রান্নাঘরের জনপ্রিয় সঞ্চালক হিসেবে প্রতিদিন দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। পর্দার বাইরেও তিনি সমানভাবে পরিচিত তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক বিশেষ সত্য সকলের সামনে তুলে ধরলেন তিনি। জানালেন দুটো বিয়ের কথা, যা শুনে অনেকেই চমকে উঠেছেন।
নিজের পোস্টে সুদীপা শেয়ার করেন তাঁর ও স্বামী অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ের সময়কার দুটি ছবি। একটিতে লাল বেনারসি শাড়ি, সোনালি ওড়না আর গলায় রজনীগন্ধার মালায় সেজে আছেন সুদীপা, পাশে সাদা পাঞ্জাবিতে অগ্নিদেব। অন্য ছবিতে তাঁদের দুজনেরই বয়স কম, সরল আর মিষ্টি এক মুহূর্ত। এই ছবির সঙ্গেই সুদীপা লেখেন, তাঁর দুটো বিয়ে হলেও দুবারই একই মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সুদীপা জানান, সুযোগ যতবারই আসুক তিনি অগ্নিদেবকেই বিয়ে করবেন। হাজার প্রিন্সেস চার্মিং থাকলেও তাঁর কাছে অগ্নিদেবই একমাত্র পছন্দ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জীবনযাপন আর কাজের ব্যস্ততাকে সহ্য করার জন্য স্বামীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভালোবাসার কথাও লেখেন তিনি। মজার ছলে এটাও উল্লেখ করেন, দিনটি তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নয়, তবুও অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
সুদীপা ও অগ্নিদেবের আলাপ হয়েছিল কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে ধারাবাহিকের সেটে। বয়সের ফারাক থাকলেও ধীরে ধীরে ভালোবাসা গভীর হয়। ২০১০ সালে অগ্নিসাক্ষী রেখে প্রথমে তাঁদের বিয়ে হয়, কারণ সেই সময় সুদীপার বাবা অসুস্থ ছিলেন এবং মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে চেয়েছিলেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ২০১৭ সালে তাঁরা রেজিস্ট্রি করেন এবং দুবার বিয়ে হওয়ার সুবাদে দুবারই হানিমুনে যান।
আরও পড়ুনঃ ‘রাতে মাঝ রাস্তায় অসহায় আমার বোন, এদিকে নিজেরটা নিজেকে বুঝে নিতে বলে আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে প্রবাহ!’ দেবলীনার কোনও দরকারেই পাশে ছিল না প্রবাহ! বিস্ফোরক দিদি শর্মিষ্ঠা!
অগ্নিদেবের প্রথম সংসার সুখের ছিল না এবং সেই বিয়ে থেকে তাঁর এক ছেলে আকাশ রয়েছে। সুদীপা কখনো সৎ মা হওয়ার চেষ্টা করেননি, বরং বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আকাশের সঙ্গে। বর্তমানে সুদীপা অগ্নিদেব ও তাঁদের ছেলে আদিদেবকে নিয়ে পরিপূর্ণ সংসার। ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর আন্তরিকতায় গড়া এই পরিবারই আজ সুদীপার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

