‘রাতে মাঝ রাস্তায় অসহায় আমার বোন, এদিকে নিজেরটা নিজেকে বুঝে নিতে বলে আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে প্রবাহ!’ দেবলীনার কোনও দরকারেই পাশে ছিল না প্রবাহ! বিস্ফোরক দিদি শর্মিষ্ঠা!

বাংলা সংগীত জগতের এক পরিচিত কণ্ঠ হলেন দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy)। সুমিষ্ট কণ্ঠ এবং আধুনিক গান গাওয়ার জন্য তিনি শ্রোতাদের কাছে বিশেষ পরিচিত। তবে সংগীতের চেয়েও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং গুরুতর অসুস্থতার কারণে। বৈবাহিক কলহ এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কদিন আগেই। তারপর থেকেই তাকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। এই কঠিন সময়ে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু সেই নিয়েও সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।

দেবলীনা এবং সায়ক দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সায়ক জানিয়েছেন যে তাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং গভীর। দেবলীনা তাঁর জীবনের অনেক কঠিন লড়াইয়ের কথা এবং বৈবাহিক সমস্যার কথা সায়কের সঙ্গে শেয়ার করতেন। দেবলীনা যখন মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, সেই চরম মুহূর্তে তিনি তাঁর স্বামী প্রবাহকে ফোন বা মেসেজ না করে সায়ককে ফোন করেছিলেন। হাসপাতালে সায়কের একটি ভিডিওতে গায়িকা জানিয়েছিলেন, ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর তিনি সায়ককে প্রথম ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সায়ক আমি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছি, আমি কি বাঁচব?’

আর দেবলীনা সায়কের এই সুন্দর বন্ধুত্ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান রকম কুমন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। অনেকের দাবি, তাঁদের মধ্যে কোনো বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এবং এই কারণেই দেবলীনার বৈবাহিক জীবনে অশান্তি। হাসপাতালের কেবিনে সায়কের বারবার যাতায়াত এবং সায়কের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও নেতিবাচক ট্রোল শুরু হয়। আর এই ঘটনায় চরম প্রতিবাদ করেছে দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা। শর্মিষ্ঠা প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন দেবলীনা মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিল, তখন তাঁর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ আসেনি। সেই সময়ে সায়কই নিজের সব কাজ ফেলে বন্ধুর প্রাণ বাঁচাতে ছুটে এসেছিল।

শর্মিষ্ঠার মতে, একটি মেয়ে বিপদে পড়লে তার পুরুষ বন্ধু পাশে থাকলেই সমাজ তাকে নিয়ে নোংরা কথা বলতে শুরু করে। সায়ক যে দায়িত্ব পালন করেছে, তা একজন প্রকৃত বন্ধুর মতোই। দেবলীনা তাঁর স্বামী প্রবাহর ওপর থেকে ভরসা হারিয়েছিলেন বলেই মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সায়ককে ফোন করেছিলেন। যে মানুষটি জীবন বাঁচাল, তাঁকে নিয়ে এমন নোংরা চর্চা করা অত্যন্ত মানসিক বিকৃতি। অভিনেতা সায়ক নিজেও এই ট্রোলের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কে কী বলল তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। তাঁর কাছে তাঁর প্রিয় বন্ধুর প্রাণ বাঁচানোটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে সায়ক চক্রবর্তীর পরকীয়া? এটাই নাকি ঝামেলার আসল কারণ? সত্যিটা আসলে কি? মুখ খুললেন অভিনেতা সায়ক!

এই ঘটনার পর লাইভ ভিডিওতে এসে সায়ক নিজের বক্তব্য জানান। অভিনেতা বলেন, ‘দেবলীনা আমার বন্ধু। যাঁরা রুচিসম্পন্ন, তাঁরা এই সম্পর্কটাকে সেভাবেই দেখবেন। অনেকে হয়তো মনে করেন, বন্ধু মানেই টুক করে একটু ‘করে’ আসি। অনেকের হয়তো বাড়িতে বর বা বউ থাকার পরও বন্ধুর সঙ্গে ছোকছোকানির সম্পর্ক। তবে আমি সেরকম নই। আমার ওরকম মেয়ে দেখলেই ছোকছোকানি হয় না। কোনও মাসিমা, বৌদি, কেউ বলতে পারবেন না আমি তাঁকে অশালীন কোনও মেসেজ করেছি রাতে। আমার দেবলীনার বিয়ে ভাঙার হলে আগেই ভাঙতাম। তা হলে ওর বিয়েতে গিয়ে আমি কেন নাচতাম?’ একমাত্র বন্ধু হিসেবে সায়ককে নিজের বিপদের দিনে পাশে পেয়েছেন গায়িকা। প্রথম দিন থেকে সায়ক দেবলীনা এবং তার পরিবারের পাশে রয়েছে। তাই জন্য দেবলীনার মা, দিদিও সায়কের প্রতি কৃতজ্ঞ।

Back to top button