‘জি বাংলা আমাকে রান্নাঘর থেকে সরিয়ে দিয়েছে আমারই দোষে…’- নিজের দোষ স্বীকার করে নিলেন সুদীপা! ঠিক কি কারণে রান্নাঘর থেকে সরে যেতে হয়েছে তাকে? মুখ খুললেন প্রাক্তন সঞ্চালিকা!

সুদীপা চ্যাটার্জী নামটা প্রত্যেক বাঙালি দর্শকের কাছে ভীষণ চেনা। জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো (Reality Show) রান্নাঘর-এর (Rannaghor) একসময়ে সঞ্চালিকার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো জি বাংলার পর্দায় সম্প্রচারিত হচ্ছে। যদিও বর্তমানে সুদীপাকে এই রিয়েলিটি শো সঞ্চালনা করতে দেখা যায় না। মাঝে বেশ কয়েকবার সুদীপার ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য সঞ্চালিকার জায়গায় বিভিন্ন অভিনেত্রীরা এসেছিলেন, তবে পরে ফিরে এসেছিলেন সুদীপা। কিন্তু বাংলাদেশে গিয়ে গো মাংস খাওয়ার বিতর্ক সৃষ্টি হয় সুদীপাকে ঘিরে তারপরই রান্নাঘর থেকে বাদ পড়েন তিনি।
বর্তমানে রান্নাঘরের নতুন সিজনে সুদীপাকে আর দেখা যায় না। জি বাংলার পক্ষ থেকে বরাবরের মতো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। তার পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ধাক্কাটা সুদীপার কাছে অনেক বড় ধাক্কা ছিল। তাছাড়াও সুদীপা মাঝেমধ্যে এমনসব বিতর্ক মূলক কথা বলেন যার কারণে খবরের শিরোনামে উঠে আসে তার নাম।
তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শো তে ধরা দিয়েছেন সঞ্চালিকা। সেখানে নিজের জীবনের নানান মুহূর্তের গল্প ভাগ করে নিয়েছেন। জানিয়েছেন রান্নাঘর থেকে সরে আসার কারণ, কিভাবে রান্নাঘরের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার। সুদীপার কাছে প্রথমেই তার রান্নাঘরে যাত্রা পথ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিভাবে কবে শুরু হয়েছিল সবকিছু জানান তিনি।
সুদীপার কথায়, ‘খুব অল্প বয়স তখন আমার সেই থেকেই আমি রান্নাঘরের প্রথম সঞ্চালিকার কাজ শুরু করি। আমার মানুষের ইন্টারভিউ নিতে খুব ভালো লাগতো। তখন একটা নিউজ চ্যানেলে কাজ করছি। সেখান থেকেই একটা শো করার অফার আসে।কিন্তু আমাদের সময় দেওয়া হয়েছিল ১০-১২ দিনের একটা শো করার জন্য। কি করব তখন আমরা কেউ ঠিক করতে পারিনি। সবাই মিলে আলোচনা করে পরে ঠিক করা হয় রান্নার শো করা হবে। ছোট একটা ঘর সেখানে কয়েকজন মিলে সেই শো টাকে শুরু করি। এর আগে বেণুদি তাপস পালের স্ত্রীর রান্নার শো করেছিল। সেখানে ওরা অনেক কিছু দেখিয়েছিল। আমার মাথা অন্য কিছু চলছিল। কিভাবে, কি দেখালে দর্শক এই শো পছন্দ করবে। তারপর যারা এই শো তে আসতে শুরু করল আমি তাদের ইন্টারভিউ নিতে শুরু করি। তাদের জীবনের গল্প শুনতে শুরু করি। আর সেই গল্পগুলোই পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে সকলের কাছে। আর সেই শো দেখে সকলের ইচ্ছে জাগে আমি আমার কথা পৌছে দেবো। আমিও ওখানে গিয়ে আমার কথা বলবো। সেখান থেকেই দর্শকদের আগ্রহ শুরু হয়। সেই করতে করতে দীর্ঘ ১৭ বছর ৫০০০ এপিসোড আমি সম্পন্ন করি।’
আরও পড়ুনঃ অহনার মুখোশ টেনে খুলে দিল ফুলকি! অরণ্য সামনে ফাঁস হয়ে গেল অহনার সব কারসাজি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
তারপর সুদীপা নিজেই জানান রান্নাঘর থেকে তার সরে আসা বা তাকে বাদ দেওয়ার আসল কারণ। তিনি বলেন, ‘রান্নাঘর থেকে আমাকে যে বাদ দিয়ে দেওয়া হল তার পেছনে আমারও কিছুটা হাত রয়েছে। আমিও তার জন্য কিছুটা দায়ী। আসলে ১৭ বছর ধরে একটা শো করছি ভালো না বাসলে তো এই শো আমি এতদিন টেনে নিয়ে আসতে পারতাম না। কিন্তু শেষের দিকে আমার মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব চলে এসেছিল। ভালো লাগছিল না একঘেয়ে লাগছিল। আমি দশ হাজারেরও বেশি রান্নার রেসিপি দেখিয়ে ফেলেছি এই ১৭ বছরে। আর কি দেখাবো। তাই আমিও কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সব মিলিয়ে তারপরে সিদ্ধান্ত নি সরে আসার।’

