‘আমার নিজের গালে নিজেকেই চড় মারতে ইচ্ছা করছে…’- লক্ষাধিক টাকা খুইয়ে দুর্দশাগ্রস্ত রান্নাঘরের প্রাক্তন সঞ্চালিকা! হারিয়ে গেল জমানো পুঁজি! ভেঙে পড়লেন সুদীপা!

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোগুলির (Reality Show) মধ্যে অন্যতম একটি হলো রান্নাঘর (Rannaghor)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো জি বাংলার পর্দায় সম্প্রচারিত হচ্ছে। এই শো-এ প্রথম দিন থেকেই সঞ্চালিকা হিসেবে দর্শক যাকে দেখে অভ্যস্ত তিনি হলেন সুদীপা চ্যাটার্জী। মাঝে বেশ কয়েকবার সুদীপার ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য সঞ্চালিকার জায়গায় বিভিন্ন অভিনেত্রীরা এসেছেন কিন্তু সুদীপার মতো করে রান্নাঘর কেউ সামলাতে পারেননি।
বর্তমানে রান্নাঘরের নতুন সিজনে সুদীপাকে আর দেখা যায় না। জি বাংলার পক্ষ থেকে বরাবরের মতো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। তার পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ধাক্কাটা সুদীপার কাছে অনেক বড় ধাক্কা ছিল। তবে এবারে আরও এক বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেলো সুদীপার জীবনে। তিনি নিজেও এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না ঘটনাটা।
বর্তমানে চারিদিকে নানান ধরনের স্ক্যাম হচ্ছে, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হচ্ছে। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ওটিপির মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে আবার সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টও হ্যাক হচ্ছে নানান পদ্ধতিতে। সমাজ যত উন্নত হচ্ছে এই হ্যাকারদের উৎপাত যেন তত বাড়ছে। এবারে সেরকমই হ্যাকারের খপ্পরে পড়েছেন সুদীপা চ্যাটার্জী। হ্যাক হয়েছে তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট।
সাক্ষাৎকারে সুদীপা জানান সম্প্রতি কয়েকদিন আগেই তারা হোয়াটসঅ্যাপে একটি চেনা প্রভাবশালী ব্যক্তির মেসেজ আসে এবং তিনি সুদীপার কাছে একটি ভেরিফিকেশন কোড চান সুদীপা তাকে বিশ্বাস করে কোডটা দিয়ে দেয়। তারপরে ঘটে দুর্ঘটনা। সুদীপা বলে, ‘আমি একদিন দুপুর বেলা আয়েশ করে মাংস ভাত খেয়ে ঘুম দিচ্ছি হঠাৎ করে আমার কাছে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মেসেজ আসে তাকে আমি খুব ভালো মতো চিনি। তিনি আমার কাছে ভেরিফিকেশন কোড চান। আমি চোখ বন্ধ করে তাকে সেই কোড দিয়ে দিই। তারপরে দেখি আমি আমার নিজের হোয়াটসঅ্যাপ লগ ইন করতে পারছি না। আর আমার চেনা পরিচিত সকলের কাছে একটা মেসেজ পৌঁছে যায়। ‘আমি সুদীপা আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে আমার এই মুহূর্তে কুড়ি হাজার টাকা প্রয়োজন।’ আর আমার এক পরিচিত আত্মীয় রাঁচি থেকে পাঁচ হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়েও দেন।’
আরও পড়ুনঃ নতুনের জন্য বাড়ি ছাড়লো বুবলাই বর্ষা! ছেলের দিকে ফিরেও তাকালো না কমলিনী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সুদীপা আরও বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য প্লাটফর্মে এই নিয়ে পোস্ট করি কিন্তু সবাই তো সেটা জানতেও পারেনি। আমার কাজের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। আমি এভাবে প্রতারিত হয়েছি এখন আমার নিজের গালে নিজেকেই চড় মারতে ইচ্ছা করছে। আমি আপনাদের সবাইকে সতর্ক করি, যদি আপনাদের কাছে কখনো এরকম মেসেজ আসে তাহলে আগে ওই ব্যক্তিকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে নেবেন সে এই ধরনের কোন মেসেজ পাঠিয়েছে কিনা। এখন আমার কিছু করার নেই আমি এখনো আমার হোয়াটসঅ্যাপ লগ ইন করতে পারছি না। যেই সিম ব্যবহার করি সেই কোম্পানিতে ফোন করেছি, তারাও জানিয়েছে তাদের কিছু করার নেই।’

