‘আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমায় কোন খারাপ কথা…’ ‘বয়স বাড়লে কি স্বাদ-আহ্লাদ মরে যায়?’ ‘ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই শুধু তেল দিতে ব্যস্ত!’ শ’ত্রুতা ভুলে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর পাশে শ্রীলেখা মিত্র!

অভিনয় হোক বা বাস্তব জীবন সরাসরি ও স্পষ্ট কথা বলার জন্য টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতি, তোষামোদের সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক নানা বিতর্ক নিয়ে আবারও বিস্ফোরক বয়ান দিলেন তিনি। বিশেষ করে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে (Rituparna Sengupta) নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা তীব্র ট্রোলিং ও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে নিজের মতামত অত্যন্ত সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন শ্রীলেখা।

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বয়স এবং সাজগোজ নিয়ে ট্রোল করাটা যেন একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শ্রীলেখা জানান, শুরুতে কিছু মিম বা ভিডিও দেখে মজার ছলে তিনি হাসলেও, পরবর্তীতে যেভাবে ট্রোলিংয়ের নামে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা দেখে তাঁর সত্যি খারাপ লেগেছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, বয়স বেড়ে গেলেই মানুষের মনের স্বাদ-আহ্লাদ বা কোনো কিছু উদযাপন করার ইচ্ছা শেষ হয়ে যায় না। কে কী পোশাক পরবেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

তবে এই ট্রোলিংয়ের পেছনে টলিউডের একটা বড় খামতিকে দায়ী করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির অধিকাংশ মানুষই তোষামোদকারী বা ‘ইয়েস-ম্যান’। তারা সবসময় তারকাদের খুশি করতে ‘হ্যাঁ তে হ্যাঁ’ মিলিয়ে চলে। শ্রীলেখা আফসোস করে বলেন, ঋতুপর্ণার আশেপাশে থাকা লোকেদের মধ্যে যদি সততা থাকত, তবে তারাই ঋতুপর্ণাকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন যে কোন পোশাকটি তাঁকে ভালো দেখাচ্ছে আর কোনটি ভালো লাগছে না। এই সঠিক ও সৎ পরামর্শ দেওয়ার মতো মানুষের খুব অভাব।

সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা আরও জানান যে বর্তমানে ঋতুপর্ণার সাথে তাঁর কথাবার্তা বন্ধ রয়েছে। তবে ঋতুপর্ণা সামনাসামনি কখনও তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি। শ্রীলেখা বলেন, যদি তাঁদের মধ্যে কথা বলার সম্পর্ক থাকত, তবে একজন স্পষ্টবক্তা বন্ধু হিসেবে তিনি নিজেই ঋতুপর্ণাকে ডেকে বলতেন যে কোনটা করা উচিত আর কোনটা নয়। ব্যক্তিগত দূরত্ব বা মতাদর্শের অমিল থাকলেও, কাজের ক্ষেত্রে শ্রীলেখা নিজেকে সম্পূর্ণ পেশাদার বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বুক দেখাক পেট দেখাক যা খুশি দেখাক, তাতে…’ ‘তুমি নিজে কীভাবে কাজ পেয়েছ সব জানি!’ ‘যোগ্যতা নেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত হওয়ার!’ সমস্ত সমালোচনার তীব্র জবাব দিলেন কনীনিকা ব্যানার্জী!

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রীলেখা জানান, পরিচালক হিসেবে তাঁর কাছে দুটি চমৎকার গল্প তৈরি আছে। যার মধ্যে একটির চরিত্রের জন্য ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে তাঁর ভীষণ প্রয়োজন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভালো প্রযোজক বা প্রডিউসার পেলে তিনি নিজে গিয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ছবি করার প্রস্তাব নিয়ে হাজির হবেন। কারণ ব্যক্তিগত মান-অভিমান সরিয়ে রেখে ভালো কাজের জন্য পেশাদার হওয়াটাই আসল।

Back to top button