‘দুই চোখে জল…’ ‘মনে হয়েছিল আমি না পেলেই ভালো হতো’, ‘মঞ্চে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে…’ প্রিয় হতে পারলেই মিলবে সম্মান, নয়তো অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখ্যান! সেই দিনটার কথা মনে পড়তেই আবেগপ্রবণ শ্রীলেখা মিত্র!

টলিউডের ঠোঁটকাটা ও স্পষ্টবাদী অভিনেত্রী হিসেবে শ্রীলেখা মিত্রের নাম সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক দুর্দান্ত চরিত্র। পর্দায় যেমন তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, বাস্তব জীবনেও ঠিক ততটাই সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালোবাসেন। যেকোনো অন্যায় বা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের রাজনীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে তিনি কখনো পিছপা হন না। তার এই আপসহীন স্বভাবের কারণে যেমন বিতর্ক দানা বাঁধে, তেমনই বহু মানুষ তার সততার প্রশংসাও করেন। অভিনয় ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাকে প্রায়শই দেখা যায়, যেখানে তিনি নিজের জীবন ও ইন্ডাস্ট্রির নানা অজানা দিক তুলে ধরেন।

সম্প্রতি টলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অতীত জীবনের একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও মন খারাপ করা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। শ্রীলেখা জানান, পুরস্কার বা অ্যাওয়ার্ড নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নানা টানাপোড়েন থাকলেও, তিনি নিজে কখনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য কাউকে ফোন করেননি বা তদ্বির করেননি। নিজের যোগ্যতার ওপর তার সবসময়ই পূর্ণ আস্থা ছিল। কিন্তু কেরিয়ারের একটি বিশেষ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তার মনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল, যা তিনি আজও ভুলতে পারেননি।

সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, একবার একটি নামী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এবং তার টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে তারা দুজনেই মনোনীত (নমিনেটেড) হয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সেই বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি পান স্বয়ং শ্রীলেখা মিত্র। নিজের ঝুলিতে পুরস্কার আসায় খুশি হলেও, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই সেখানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যা দেখে শ্রীলেখা নিজেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন।

পরবর্তী একটি পুরস্কারের নাম যখন ঘোষণা হওয়ার সময় আসে, তখন শ্রীলেখার সেই বান্ধবী নিশ্চিত ছিলেন যে এবার পুরস্কারটি তিনিই পেতে চলেছেন। এমনকি মঞ্চে ওঠার জন্য তিনি প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সবাইকে চমকে দিয়ে মঞ্চ থেকে অন্য এক অভিনেত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় শ্রীলেখার সেই বান্ধবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যদিও শ্রীলেখা মিত্র সেই সাক্ষাৎকারে সকলের সামনে তার বান্ধবীর নাম বা সেই অন্য অভিনেত্রীর নাম প্রকাশ করেননি, তবে ঘটনার আকস্মিকতা যে কতটা নিষ্ঠুর ছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেন।

আরও পড়ুনঃ ‘তোমার চোখে দেখেছি মায়ের স্নেহ…’ এক লহমায় ফিরল রূপোলি পর্দার নস্টালজিয়া! প্রসেনজিৎকে বুকে টেনে আবেগঘন বার্তা প্রবীণ অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়ের!

বান্ধবীর এই চরম অপমান ও কষ্ট দেখে শ্রীলেখা মিত্রের নিজের মনও ভেঙে গিয়েছিল। তিনি জানান, সেই সময় তার নিজের খুব খারাপ লেগেছিল এবং বান্ধবীর জন্য বুক ফেটে কষ্ট হচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিল যে, শ্রীলেখা মনে মনে ভেবেছিলেন এই পুরস্কারটা যদি তিনি নিজেও না পেতেন, তাহলেও হয়তো ভালো হতো। অন্যের সাফল্যের মাঝে নিজের কাছের মানুষের এই তীব্র যন্ত্রণা ও হাতাশা শ্রীলেখাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। ইন্ডাস্ট্রির চাকচিক্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা এমন এক মন খারাপের গল্প শেয়ার করে অভিনেত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন যে, প্রতিযোগিতার বাইরেও সত্যিকারের বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা এখনও বেঁচে আছে।

Back to top button