‘আমাকে মা’রধর করা হয়েছে, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে…’- ভয়ংকর অভিজ্ঞতার স্বীকার ইমন চক্রবর্তী! বিয়ের এতদিন পর হঠাৎ বিস্ফোরক দাবি গায়িকার!

বর্তমান সময়ে বাংলা সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় একজন গায়িকা হলেন ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলা সিনেমা, চলচ্চিত্রে নিজের কন্ঠে অসাধারণ সমস্ত গান শ্রোতাদের উপহার দিচ্ছেন ইমন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান থেকে শুরু করে লোকসংগীত, আধুনিক গান সব ধরনের গানেই পারদর্শী ইমন। ৮ থেকে ৮০ সকলেই ইমনের ভক্ত। ২০১৭ সালে ‘প্রাক্তন’ ছবির বাংলা গান ‘তুমি যাকে ভালবাসো’-র হাত ধরেই দর্শক মহলে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।
তবে এবারে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে জানাতে বাধ্য হলেন গায়িকা। ইমন কোনদিনও ভাবেননি এই কথাগুলো সাক্ষাৎকারে তাকে ভাগ করতে হবে। তবে অভিনেত্রীর মুখে সেই সমস্ত কথা শুনে ঘাবড়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা। তারা কেউই ভাবতে পারেননি ইমনের মুখ থেকে কখনো এই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে হবে। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোতে এসে নিজের জীবনের সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন ইমন।
অভিনেত্রী জানান এক সময় তার উপরে প্রচুর অত্যাচার করা হয়েছে। এমন মার খেয়েছেন তিনি সেটা কোনদিনই ভোলার নয়। ইমন বলেন, ‘আমার পিঠে অসংখ্য স্কেল ভাঙ্গা হয়েছে। সেটা আমি কোনদিনই ভুলতে পারবো না। প্রায় দিনই বাড়ির বাইরে বের করে দেওয়া হতো।’ কিন্তু অভিনেত্রীর সাথে এমন আচরণ করার কারণ কি? তবে কি এতদিন ধরে অত্যাচারিত হয়ে এসেছেন তিনি অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে মুখ খুললেন ইমন?
ইমন চক্রবর্তী ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে গাঁটছড়া বাঁধেন নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে। কয়েকদিনের প্রেমের পরই সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা। তারপর থেকে তাদের সুখের সংসার শুরু হয়। বহুবার সাক্ষাৎকারে স্বামীকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলতে শোনা গিয়েছে ইমনকে। নীলাঞ্জন ইমনকে বাবার মতো আগলে রাখেন, নীলাঞ্জন ছাড়া ইমন এক পাও চলতে পারেন না এ কথাও বলতে শোনা গিয়েছিল ইমনকে। তবে হঠাৎ করে অত্যাচারের কথা কেন তুললেন গায়িকা?
তবে এই ঘটনাটা একেবারেই ইমন এবং নীলাঞ্জনের সংসারের ঘটনা নয়। এটা ইমনের ছোটবেলার ঘটনা। যখন গায়িকা গান শিখতেন তখনকার ঘটনা এটা। ইমন গান শিখেছেন তার শিক্ষক রাজকুমারের কাছে। কিন্তু গান গাইতে গিয়ে প্রায় ভুল করতেন গায়িকা। তার জন্য পিঠে পড়ত স্কেলের মার। শিক্ষক কান ধরে বাড়ির বাইরে পর্যন্ত বার করে দিত ইমনকে। সেই গল্পই পডকাস্ট শোতে এসে ভাগ করেছেন ইমন।
আরও পড়ুনঃ ‘বয়স হচ্ছে, সব কথা মাকে বলা যায় না…কষ্টগুলো ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই’- দুশ্চরিত্র স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ! একাকিত্বের যন্ত্রণা ফুটে উঠলো অভিনেত্রীর কন্ঠে!
ইমন বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি প্রচুর মার খেয়েছি। আমার পিঠে প্রচুর স্কেল ভাঙ্গা হয়েছে। আর সেটা আর কেউ নয় আমার শিক্ষক রাজকুমার। এমন মারতো আমি একবার ভয়ের চোটে দাদরা তালকে বলে দিয়েছিলাম আটমাত্রা। এমন মার মেরেছে সেই মারগুলো যদি আমি না খেতাম তাহলে আমার গায়িকা হওয়া হত না। মায়ের কাছে তো খেয়েইছি রাজুদার কাছেও খেয়েছি তার সাথে। রোজই ঘরের বাইরে বের করে দিয়ে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিত, উঠবস করাতো।’ তবে এই ঘটনাগুলি নিছকই কি মজার ছলেই ভাগ করেছেন গায়িকা। হাসতে হাসতে রীতিমতো নিজের ছোটবেলার সেই সমস্ত স্মৃতি আবার সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। বর্তমানে তো তিনি সকলের পছন্দের গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি নিজের এই সাফল্যের সমস্ত স্বীকৃতি দেন তার সেই ছোটবেলার রাজকুমার স্যারকে।

