‘বয়স হচ্ছে, সব কথা মাকে বলা যায় না…কষ্টগুলো ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই’- দুশ্চরিত্র স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ! একাকিত্বের যন্ত্রণা ফুটে উঠলো অভিনেত্রীর কন্ঠে!

টেলিভিশনের পর্দার (Bengali Television) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন অভিনেত্রী স্বর্ণকমল দত্ত (Swarna Kamal Dutta)। কিছুদিন আগেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল অভিনেত্রীর নাম। দীর্ঘ পনেরো বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। বাস্তবে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটেছে অভিনেত্রীর। টেলিভিশনের পর্দায় একের পর এক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন ঠিকই, তবে বাস্তব জীবনটা অভিনেত্রীর জন্য অনেকটাই কঠিন।
২২-২৩ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী। স্বামীর এই স্বভাব এত বছর ধরে সহ্য করতে হয়েছে। তার স্বামীর মহিলা দেখলেই নাকি ভালো লাগে। যার তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যান। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘আমার মেয়ে যখন পাঁচ মাসের তখন ও আমাকে বাড়ি থেকে একবার বের করে দিয়েছিল। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই বাড়ির কেয়ারটেকাররা আমাকে বসিয়ে সান্তনা দিয়েছিল। আমি এর আগেও সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলাম। এর মতো আমিও ভেবেছিলাম যে যদি সংসারটাকে কোনভাবে বাঁচানো যায়।’
বর্তমানে অভিনেত্রীর সন্তান অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছে। সে এখন সবটাই বোঝে। তাই তাকে আলাদা করে আর কিছু বলতে হয় না। তবে অভিনেত্রীর সংসার ভেঙে যাওয়াটা তার বাবা-মাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল। সম্প্রতি আরো একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ধরা দিয়েছেন এবং সেখানে জানিয়েছেন একাকীত্ব বর্তমানে কতটা কষ্ট দিচ্ছে অভিনেত্রীকে।
অভিনেত্রী এবং তার স্বামীর ছিল লাভ ম্যারেজ। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম এবং তারপরে বিয়ে। কিন্তু নানান পারিপার্শ্বিক কারণে এবং সাংসারিক কারণে তাদের বিচ্ছেদ হয়। যদিও এখনও আইনিভাবে তারা স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু তাও একদিন হঠাৎ করেই তার স্বামী তাকে এবং তার মেয়েকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে মেয়েকে নিয়ে একাই রয়েছেন স্বর্ণকমল। কিন্তু এই একাকীত্ব এখন অভিনেত্রীকে গ্রাস করছে। একা থাকতে অভিনেত্রী খুবই ভয় পান। ছোট থেকেই জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হওয়া সকলের মাঝে সকলকে নিয়ে বড় হয়েছেন। সেখানে এভাবে একা হয়ে যাওয়া একেবারেই মানতে পারেন না তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘প্লুটো ম’রেছে, পার্থ নয়…’ প্লুটোর চরিত্রের মৃ’ত্যু নিয়ে বিতর্কের ঝড়! কি প্রতিক্রিয়া অভিনেতার মা-বাবার?
অভিনেত্রী জানান, ‘একাকীত্ব ভীষণই কঠিন জিনিস সব কথা তো আর মা বাবাকে বলা যায় না, ওদেরও বয়স হচ্ছে। সব কথা আমার মেয়েকেও আমি বলতে পারি না। কারণ ও এই নেগেটিভ কথাবার্তা খুব একটা শুনতে পছন্দ করে না। তাই আমার বলার মত কেউ নেই। মেয়েকে বলতে চাই না কারণ শিশু মনটাকে আমি এত তাড়াতাড়ি নষ্ট করতে চাই না। বড্ড একা লাগে। একাকীত্বটা সমুদ্রের মতো তুমি তলিয়ে যাবে কিন্তু ওঠার জন্য পার পাবে না।’

