সাফল্যের আড়ালে দীর্ঘ অপেক্ষা! ‘তখন আমার ১৬ বছর বয়স, আমি…’ কি ঘটেছিল নাবালিকা গায়িকার সঙ্গে? জানালেন শ্রেয়া ঘোষাল!

মাত্র ষোলো বছর বয়সে স্বপ্নের দরজা খুলে গিয়েছিল তাঁর জন্য। সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত দেবদাস ছবিতে গান গেয়ে বলিউডের প্লেব্যাক দুনিয়ায় অভিষেক করেন শ্রেয়া ঘোষাল। প্রথম ছবিতেই শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত-এর মতো তারকাদের জন্য কণ্ঠ দেওয়া নিঃসন্দেহে এক দুর্দান্ত সূচনা। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছেন, সেই শক্তিশালী শুরু থাকলেও পরবর্তী গান পেতে তাঁকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। প্রতিদিন কাজের জন্য ফোন করা নয়, বরং তিনি বিশ্বাস করতেন সঠিক সময় ও সঠিক সুযোগের ওপর।
শ্রেয়া মনে করেন, প্রতিটি গানের নিজস্ব কাস্টিং থাকে। গান যদি সঠিক মুহূর্তে সঠিক কণ্ঠে না আসে, তবে তার জাদু তৈরি হয় না। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। সেই সময়টা সহজ ছিল না, কারণ প্রথম সাফল্যের পর প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়েছিল অনেক। কিন্তু তাড়াহুড়ো না করে নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়ার সিদ্ধান্তই তাঁকে আলাদা করে দেয়। তাঁর কথায়, শিল্পের ক্ষেত্রে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ স্বীকারোক্তি আসে জিসম ছবির প্রসঙ্গে। ছবির জনপ্রিয় গান জাদু হ্যায় নাশা হ্যায় গাওয়ার সময় তিনি নিজেকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছিলেন। গানটি পর্দায় অভিনয় করেছিলেন বিপাশা বসু ও জন আব্রাহাম। শ্রেয়া জানান, তাঁর মনে হয়েছিল এতটা সংবেদনশীল আবহ তিনি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না। বয়স তখন মাত্র আঠারো, কণ্ঠে সেই পরিণত আবেগ আনাটা তাঁর কাছে কঠিন মনে হয়েছিল।
কিন্তু সুরকার এম এম কিরাভানি-র দৃঢ় বিশ্বাস ছিল অন্যরকম। তিনিই চেয়েছিলেন এই নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বর। শ্রেয়া জানান, গানটি গাওয়ার সময় তিনি ভেবেছিলেন তাঁর জায়গায় থাকলে আশা ভোঁসলে কীভাবে গাইতেন। সেই ভাবনাকেই অনুসরণ করে নিজের মতো করে তুলে ধরেন গানটি। ফলাফল আজ ইতিহাস। গানটি মুক্তির পর চার্টবাস্টার হয়ে ওঠে এবং আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
বর্তমানে শ্রেয়া বিচারকের আসনে রয়েছেন ইন্ডিয়ান আইডল-এ, সঙ্গে আছেন বাদশা ও বিশাল দাদলানি। পাশাপাশি সলমন খান অভিনীত আসন্ন ছবি ব্যাটেল অব গালওয়ানের জন্য মাত্রুভূমি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গত বছর ঘোষণা করেছেন তাঁর বিশ্বব্যাপী কনসার্ট সিরিজ দ্য আনস্টপেবল ট্যুর, যা ভারতসহ অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, আবুধাবি ও যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে। সাফল্যের শিখরে থেকেও নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তিই শ্রেয়াকে আরও বড় শিল্পী করে তোলে।

