‘দাদু ছিলেন লতা-পন্থী আর বাবা ছিলেন আশা-পন্থী’ আশাজির স্মরণে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ!

প্রখ্যাত পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) স্মৃতির ভাঁড়ার খুলে জানালেন তাঁর এক অমূল্য অভিজ্ঞতার কথা, যেখানে তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী Asha Bhosle-কে। ‘বেগমজান’ ছবির জন্য ‘প্রেম মে তোহরে’ গানটি রেকর্ড করার সময় যশরাজ স্টুডিয়োয় তাঁদের দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। শুধু একটি গানের রেকর্ডিং নয়, সেই দিন যেন হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের এক জীবন্ত পাঠ। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা সেই আড্ডায় আশাজি তাঁর জীবনের নানা অজানা গল্প শোনান, যা আজও সৃজিতের মনে গেঁথে রয়েছে গভীরভাবে।
সেই আড্ডার মূল আকর্ষণ ছিল তাঁর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। Sachin Dev Burman, Rahul Dev Burman এবং O. P. Nayyar-এর সঙ্গে কাজের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। পুরনো দিনের গান রেকর্ডিংয়ের প্রযুক্তি থেকে শুরু করে স্টুডিয়োর অভ্যন্তরের গল্প— সবই ছিল তাঁর কথায় জীবন্ত। সৃজিত জানান, সেই সময়ের কিছু মূল্যবান কথা তিনি রেকর্ড করে রেখেছিলেন, যা আজ তাঁর কাছে এক অমূল্য সম্পদ। একই সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মের শিল্পী Sonu Nigam এবং Shreya Ghoshal-এর প্রশংসাও করেছিলেন আশাজি।
আরও পড়ুনঃ ভালোবাসা নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা? দুই বোনের সম্পর্কে কেন ধরেছিল ফাটল? লতা-আশার অজানা গল্প ঠিক যেন আবেগ আর বাস্তবের মেলবন্ধন!
লতা না আশা এই চিরন্তন বিতর্ক নিয়েও সেই দিন নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন আশাজি। Lata Mangeshkar সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, লতাদিদি সূর্যের মতো, এক ও অদ্বিতীয়। এই স্বীকারোক্তি শুধু একজন শিল্পীর নম্রতা নয়, বরং দিদির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধারই প্রতিফলন। তবে সৃজিত নিজে স্বীকার করেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আশার কণ্ঠের ভক্ত। তাঁর পরিবারেও এই নিয়ে ছিল মজার মতভেদ— দাদু ছিলেন লতা অনুরাগী আর বাবা আশার ভক্ত।
শৈশবের সেই সুরেলা পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা সৃজিতের মনে আশার গান আলাদা জায়গা করে নেয়। প্রেম, বিরহ কিংবা ক্যাবারে— প্রতিটি ঘরানাতেই আশার অনন্য দক্ষতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে বারবার। ‘উমরাও জান’ বা ‘ইজাজত’-এর মতো ছবির গান তাঁর মনে আজও সমান তাজা। তিনি বলেন, আশার সেরা দশটি গান বেছে নেওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ সেই তালিকা সহজেই পঞ্চাশ বা একশোতে পৌঁছে যেতে পারে।
শেষে আবেগঘন কণ্ঠে সৃজিত বলেন, যাঁদের গানে আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি, তাঁদের মধ্যে আর এক নক্ষত্র আজ হারিয়ে গেল। এই বিদায় শুধু একজন শিল্পীর নয়, বরং একটি যুগের অবসান। তাঁর কণ্ঠে ভেসে ওঠা সেই স্মৃতিগুলোই আজ রয়ে গেছে সঙ্গী হয়ে। মন খারাপের মাঝেও তিনি যেন অনুভব করেন, আশার সুর চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।

