‘উত্তমকে পাঠিয়ে দাও, খুব চুমু খেতে ইচ্ছা করছে…’ সুপ্রিয়া দেবীকে ফোন করে ভয়ানক আবদার সুচিত্রার! কেনো এমন বলেছিলেন মহা নায়িকা?

উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) সময় বার বার তার নাম জড়িয়েছে একাধিক অভিনেত্রীর সাথে। সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen) থেকে শুরু করে সুপ্রিয় দেবী (Supriya Devi) সকলের সঙ্গেই কখনও না কখনও নাম জড়িয়ে পড়েছে মহানায়কের। সেই নিয়ে কত খবর বেরিয়েছিল ওই সময়। কিন্তু সুপ্রিয়া দেবী তাঁর বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন, সুচিত্রার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বটা জমে ওঠে উত্তমের হাত ধরেই। আর সুচিত্রা-উত্তমের বন্ধুত্বে যে একটা সরলতা ছিল, তাও স্বীকার করেছিলেন সুপ্রিয়া।

তবে উত্তম-সুচিত্রার প্রেম নিয়ে টলিপাড়ায় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও, আসলে তাঁরা দুজন ছিলেন দারুণ বন্ধু। এমনকী, উত্তমকে তুই বলে ডাকতেন সুচিত্রা। উত্তম ও সুচিত্রার মধ্য়ে মাঝে মধ্যেই নাকি চলত রাগ-অভিমান। উত্তম যেহেতু ছিলেন রসিক মেজাজের আর সুচিত্রা শুটিং ফ্লোরে গুরুগম্ভীর, তাই নাকি অনেক সময়ই উত্তম ছোটখাটো রসিকতা করলেও, সুচিত্রার মুখ ভারী হয়ে যেত।

actor

কিন্তু সুপ্রিয়া দেবী তাঁর বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন, সুচিত্রার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বটা জমে ওঠে উত্তমের হাত ধরেই। আর সুচিত্রা-উত্তমের বন্ধুত্বে যে একটা সরলতা ছিল, তাও স্বীকার করেছিলেন সুপ্রিয়া।

Uttam Kumar, Bengali movie, উত্তম কুমার

তিনি আরও লিখেছেন, এমনই একদিন হঠাৎ সকাল সকাল রমাদির ফোন আসে। ফোনটা আমিই ধরি। রমাদি সোজা আমাকে বলেন, উতু আছে? (উত্তম কুমারকে উতু বলেই ডাকতেন সুচিত্রা) উত্তম তখন বাড়িতে ছিল না, সেটা রমাদিকে জানাতেই, রমাদি বললেন, ইসস, উতুকে খুব চুমু খেতে ইচ্ছা করছে তো! আমি অল্প হেসে বললাম, বেশ তো! আমি শুটিং ফ্লোরে ফোন করে বলে দিচ্ছি, শুটিং শেষে তোমার বাড়ি চলে যাবে উত্তম। তুমি চুমু খেয়ে নিও। আমার মুখে এমন কথা শুনে রমাদি রীতিমতো হতবাক। আমাকে বলল, একী তোর হিংসা হচ্ছে না! আমি রমাদিকে বললাম, নাহ, কারণ তোমাকে আমি খুব ভালভাবেই চিনি। তোমার রসিকতার ধরনটাও জানা আছে।

আরও পড়ুনঃ ‘গীতা বলে কিছু নেই, কুম্ভে ডুব দিলেই পাপ ধুয়ে যায় না…’- হিন্দু ধর্ম গ্রন্থকে অপমান চন্দন সেনের! দাবি নেটিজেনদের

১৯৮০ সালে ওগো বধূ সুন্দরী ছবির শ্যুটিং করতে করতেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন উত্তম কুমার। তাঁর চলে যাওয়া অনেককেই গভীর ভাবে আঘাত দিয়েছিল। উত্তম কুমার যেদিন চলে যান সেই খবর সুচিত্রা সেনের কাছে পৌঁছলে তিনি সেটা সহ্য করতে পারেন না। এমনকি শেষবারের জন্য মহানায়ককে দেখতে যাবেন না বলেও ঠিক করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোদ চশমা পরে গিয়েছিলেন সহকর্মী, বন্ধুর সঙ্গে শেষ দেখা করতে।

Back to top button