‘ওই একমাস আমার শরীরে কিছু ছিল না, প্রচন্ড কাঁপুনি হতো, বমি হত মনে হতো হাত পা ছিঁড়ে যাবে…’- প্রায় মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন সপ্তর্ষি! নিজের মুখেই বললেন সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা!

সপ্তর্ষি রায় (Saptarshi Roy), বাংলা টেলিভিশন জগতের একজন অতিপরিচিত মুখ। এই অভিনেতার অভিনয় জীবন আর ব্যক্তিগত জীবন, দুটোই সমাজ মাধ্যমের আলোচনায় স্থান পায়। অভিনয় জগতে তার যাত্রা, চরিত্রের বৈচিত্র্য এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সব সময় তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে। চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক, নাটক ও ডিজিটাল মিডিয়া সব ক্ষেত্রেই তিনি তার চরিত্রগুলোকে আন্তরিকতা আর সাবলীলতার সঙ্গে পরিপূর্ণতা দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও সপ্তর্ষি রায় বেশি পরিচ্ছন্ন, শান্ত আর দায়িত্বশীল। তার স্ত্রী সোহিনী পেশায় একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা। তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে তারা একে অপরকে বুঝেছেন, পাশে থেকেছেন। এই সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, একান্ত বন্ধনের চেয়েও বেশি, এক ধরনের পারস্পরিক সম্মান আর সমর্থনের সম্পর্ক। নিজের চাইতে অনেক বছরের বড় মেয়েকে বিয়ে করায় অনেক সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে তাদের। কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সবকিছুকে আগলে নিয়েছে সপ্তর্ষি।

বর্তমানে সপ্তর্ষি রায় নতুন প্রজেক্টে যুক্ত। এই মুহূর্তে তাকে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার পর্দায় সম্প্রচারিত গৃহপ্রবেশ ধারাবাহিকে। শর্ট-ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ একসঙ্গে সব কিছুতেই সময় দিচ্ছে অভিনেতা। নায়ক থেকে খলনায়ক প্রত্যেকটি চরিত্রকেই নিজের দক্ষতা দিয়ে আপন করে নিয়েছেন তিনি।

তবে সপ্তর্ষি রায়ের জীবন একদম সোজা ছিল না। একটা সময় ছিল যখন তিনি পুরোপুরি ভাবে নেশায় আচ্ছন্ন ছিলেন। এমন কোন নেশা নেই যেটা তিনি করেননি। যখন তিনি নেশা করতেন তখন তিনি নিজের মধ্যে থাকতেন না। সেই কঠিন সময়ের কথা মনে পড়লে আজও কেঁপে ওঠেন অভিনেতা। তবে এই বিষয়ে তিনি কখনোই কারো কাছ থেকে কিছু লোকাননি।

আরও পড়ুনঃ ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! শরীরে দাউ দাউ করে জ্ব’লছে আগুন! শুটিং সেটে অ’গ্নিদগ্ধ অভিনেতা! এখন কেমন আছিস তিনি?

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তখন আমি একসঙ্গে পাঁচটা নেশা করতাম। তখন আমার শরীরে কিছু ছিল না। হাত-পা মনে হতো ছিড়ে যাচ্ছে। বমি হয়ে যেত, পটি হয়ে যেতো, নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। জীবনের ভারসাম্যটাই হারিয়ে গিয়েছিল।’ ঠিক এইরকম একটি জটিল অবস্থা থেকে উঠে আজ আবারো টেলিভিশনের পর্দায় সবাইকে আনন্দ দিচ্ছে অভিনেতা সপ্তর্ষি রায়।

Back to top button