‘আদতে আমি অতটাও ল’ম্পট নই…’- কি ঘটালেন পর্দায় দুষ্টু খলনায়ক সাহেব চট্টোপাধ্যায়! কার কাছে ল’ম্পট প্রমাণিত হলে অভিনেতা?

বড়দিন মানেই বড় পর্দায় বাড়তি উন্মাদনা, আর সেই উন্মাদনার মধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। এ বছরের বড়দিনে মুক্তি পাওয়া তিনটি বড় বাজেটের ছবির মধ্যে অরিন্দম শীল পরিচালিত মিতিন একটি খুনির সন্ধানে ছবিতে তাঁর খলনায়ক রূপ আলাদা করে আলোচনায়। গান রেকর্ডিং সংস্থার কর্ণধার হিসেবে সাহেবের চরিত্রটি যেমন রুচিশীল, তেমনই রহস্যময় ও দুষ্টু। ছবিতে তাঁর জীবনকাহিনি ধীরে ধীরে খুলে যায়, যেখানে পারিবারিক টানাপড়েন, অতীতের ক্ষত আর ব্যক্তিত্বের অন্ধকার দিক একসঙ্গে মিশে রয়েছে। এই জটিল চরিত্রে সাহেবের অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পর্দায় সাহেব একাধিক নারীসঙ্গে অভ্যস্ত, রেগে গেলে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে কড়া ভাষা। অথচ বাস্তবের সাহেব একেবারেই উল্টো। আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা হেসে স্বীকার করেছেন, রাগ হলেও তাঁর মুখে কখনও গালমন্দ আসে না। বরং অভিনয়ের সময় এমন সংলাপ বলতে গিয়েও অস্বস্তি হয়েছে। নিজেকেই বুঝিয়ে নিতে হয়েছে যে সবটাই চরিত্রের প্রয়োজনে। তাঁর কথায়, বাস্তবে নারীসঙ্গ বলতে যা বোঝায়, তা কখনওই তাঁর জীবনে ছিল না। ছোট বয়সে দু একটি প্রেম থাকলেও বিয়ের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে সংসারী।

গানের প্রতি ভালোবাসা অবশ্য পর্দা আর বাস্তব দু জায়গাতেই মিলিয়ে যায়। সাহেব নিজে একজন ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, গান তাঁর জীবনের বড় অংশ। সুপুরুষ অভিনেতা হওয়ায় অনুরাগিণীর সংখ্যাও কম নয়, তবে সেই অনুরাগীদের বয়স হয় খুব কম, নয়তো তাঁর থেকে অনেকটাই বেশি। ফলে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা করে চিন্তার কারণ নেই বলেই মজা করে জানিয়েছেন তিনি। এই স্বচ্ছন্দ আত্মবিশ্বাসই হয়তো তাঁকে বাস্তবে আরও স্থির ও পরিমিত করে তুলেছে।

খলনায়ক হিসেবে সাহেবকে এর আগেও দর্শক দেখেছেন হত্যাপুরী, অনুসন্ধান, বিজয়া কিংবা ব্ল্যাক উইডোর মতো ছবিতে ও সিরিজে। পর্দায় দুষ্টুমি করার সুযোগ পেলে তিনি যে তা পুরোপুরি উপভোগ করেন, সে কথা অস্বীকার করেননি। তবে তিনি বারবার স্পষ্ট করেছেন, এই উপভোগ শুধুই অভিনয়ের। চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলাই তাঁর লক্ষ্য, বাস্তব জীবনের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। তাই দর্শকের কাছে তাঁর চরিত্রগুলো বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! ক্যা’নসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হেরে গেলেন অভিনেত্রী! না ফেরার দেশে হারিয়ে গেলেন শ্রাবণী বণিক!

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, নায়ক সাহেব না খলনায়ক সাহেব, কোনটা বেশি জনপ্রিয়। এই প্রশ্নে একটু থেমে গিয়ে অভিনেতা জানিয়েছেন, দর্শক আসলে তাঁকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখতে চান না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী একবার কোনও তকমা গায়ে লেগে গেলে তা সহজে খোলে না। সেই কারণেই হয়তো একের পর এক খলনায়কের চরিত্র আসছে তাঁর ঝুলিতে। তবু অভিনেতা হিসেবে সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

Back to top button