‘আমার বিয়ের সাক্ষী ছিল রাহুল…ছেলের জন্মদিনের কেক কেনাই শেষ আবদার!’ বন্ধু রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে চোখের জলে ভাসলেন সাহেব চ্যাটার্জী!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিচিত মুখ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুরা। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে রাহুলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা সাহেব চ্যাটার্জী। তাদের সম্পর্কের গভীরতা যে কেবল কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পারিবারিক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, সাহেবের প্রতিটি কথায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাহেব চ্যাটার্জী জানান যে, তার জীবনের অন্যতম ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন রাহুল। সাহেবের আইনি বিয়ের সময় রেজিস্ট্রি খাতা বা উইটনেস হিসেবে সই করেছিলেন স্বয়ং রাহুল মুখোপাধ্যায়। বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন কেবল কলকাতায় নয়, আউটডোর শুটিংয়ের সময়েও একইভাবে বজায় ছিল। সাহেবের চোখে রাহুল ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি বন্ধুর ওপর অনায়াসে অধিকার ফলাতে পারতেন।
স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে সাহেব ফিরে যান তাদের শেষ শুটিংয়ের দিনগুলোতে। তারা দুজনে বেলপাহাড়িতে একটি সিনেমার শুটিং করতে গিয়েছিলেন। শুটিংয়ের সেই দিনগুলো কাটানোর পর যখন তারা কলকাতায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেদিনই ছিল রাহুলের ছেলে সহজের জন্মদিন। সেই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাহুলের মনে ছিল একরাশ আনন্দ এবং পরিকল্পনা, যা এখন সাহেবের কাছে কেবলই এক বেদনাদায়ক স্মৃতি।
সাহেব জানান, সেদিন সকালে তার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাহুল নাছোড়বান্দা ছিলেন। তিনি সাহেবকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সাহেব যদি নিজে থেকে না ওঠেন, তবে তিনি দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাকে তুলে ছাড়বেন। রাহুলের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে ছেলের জন্য জন্মদিনের কেক কিনতে যাওয়া। বন্ধুর প্রতি রাহুলের এই ভালোবাসা এবং অধিকারবোধ আজও সাহেবের কানে প্রতিধ্বনিত হয়।
আরও পড়ুনঃ এমন জন্মদিন যেন কারও জীবনে না আসে…’ জন্মদিনটাই অ’ভিশাপ? জীবনের বিশেষ দিনে কিসের দুঃখ খুদে গায়িকা অঙ্কনা দের?
শেষে সাহেব অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে জানান যে, সহজের জন্য সেই কেক কিনতে যাওয়ার আবদারটুকুই ছিল রাহুলের সাথে তার জীবনের শেষ কথোপকথন। ছেলের জন্মদিনের আনন্দ নিয়ে যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেও মেতে ছিলেন, তার এই হঠাৎ প্রস্থান যেন এক অপূরণীয় ক্ষতি। সাহেবের এই স্মৃতিচারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই অনুরাগী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

