‘সরকার বদলাতেই গতি পেল মামলা…’ দীর্ঘ নয় বছর পর মামলায় রদবদল! প্রধান সাক্ষী হয়ে আদালতে হাজির সাহেব ভট্টাচার্য!

২০১৭ সালের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা হয়তো অনেকের মনে আজও তাজা। শহরের বুকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন উদীয়মান মডেল ও সঞ্চালিকা সনিকা সিং চৌহান। সে রাতে তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চ্যাটার্জি (Bikram Chatterjee)। ঘটনার পর বিচার চেয়ে সোচ্চার হয়েছিল বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। কিন্তু দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ নয়টি বছর, সময় গড়ালেও আইনি প্রক্রিয়া চলছিল অত্যন্ত ধীরগতিতে। সম্প্রতি আবার এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে আলিপুর আদালত চত্বর, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পার করে এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে সম্প্রতি আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন সনিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাহেব একটি আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি বলেন, সনিকার মা-বাবা গত নয়টি বছর ধরে অনবরত আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়েকে হারানোর চরম যন্ত্রণা বুকের মধ্যে চেপে আজও বিচার পাওয়ার আশায় রাত দিন এক করছেন তাঁরা। সনিকার স্মৃতি আজও তাঁদের মনে কতটা জ্বলজ্বলে, তা বোঝাতে গিয়ে সাহেব জানান, সনিকার মা আজও তাঁর মেয়ের সমাধিতে ফুল শুকাতে দেন না। এতদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় থাকা সেই পরিবারের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

তবে কেবল আবেগই নয়, এই মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং হঠাৎ করে গতি পাওয়ার পেছনে রাজনীতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন সাহেব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন অভিনেতা বিক্রম চ্যাটার্জি, আর সেই কারণেই নাকি তদন্তপ্রক্রিয়া এতদিন আটকে ছিল বা ধীরগতিতে চালানো হচ্ছিল। সাহেব ইঙ্গিত দেন, সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার পর এবং নতুন প্রশাসন আসার পরই হঠাৎ করে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর থমকে থাকার পর পর পর শুনানির দিন নির্ধারণ হওয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এবার হয়তো সনিকার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

অন্যদিকে, সাহেবের এই রাজনৈতিক প্রভাবের দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করেছেন বিক্রম চ্যাটার্জির আইনজীবী। আদালতের শুনানির মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি জানান, এই মামলা সম্পূর্ণভাবে একটি অনভিপ্রেত এবং মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটেনি। আইনজীবী আরও দাবি করেন যে, স্বয়ং সনিকা সিং চৌহানের বাবা আদালতে জেরার মুখে স্বীকার করেছেন যে পুলিশের কাছে তিনি এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই জানিয়েছিলেন এবং বিক্রমের বিরুদ্ধে পৃথক কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করেননি। ঘটনার দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিক্রম আদালতে হাজির থাকতে না পারলেও তাঁর অনুপস্থিতির কারণ বিচারক মেনে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘লজ্জায় হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল…’ একই মঞ্চে দুই সুরের নক্ষত্র! কৌশিকী চক্রবর্তীর সামনে গান গাইতে গিয়ে একটি হাল হলো ইমন চক্রবর্তীর!

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে আইনি টানাপোড়েনে আটকে থাকা সনিকা মৃত্যু মামলা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন সনিকার পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ন্যায়বিচারের আশা, অন্যদিকে আইনি যুক্তি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দুই মিলেই এই ইস্যু ফের লাইমলাইটে চলে এসেছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন হলেও, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে। আইনের বিচারে সত্যিটা কী সামনে আসে এবং সনিকার মা-বাবা এতদিন পর শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Back to top button