প্রথম ছবিতেই বাজিমাত! ‘বিশ্ব যেটা করেছিল উত্তম কুমার সেটা পারেনি…’- বিশ্বজিতের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কে? মুখ খুললেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়!

বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় মানেই ঝকঝকে চেহারা আর উষ্ণ ব্যবহার। সেটে ঢুকলেই চারপাশ আলোকিত করে তুলতেন তিনি। সহ অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা ছিল তাঁর স্বভাব। একসঙ্গে খুব বেশি ছবি না করলেও যেগুলি করেছেন, সেগুলির স্মৃতি আজও অমলিন। সহজ, রোম্যান্টিক ও চার্মিং ব্যক্তিত্বে সকলের মন জয় করেছিলেন বিশ্বজিৎ।
কলকাতায় তখন তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সন্ধ্যা রায়ের বিপরীতে একাধিক ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের ভালবাসা কুড়িয়েছিলেন। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর ও আত্মিক। পর্দায় যেমন দুই ভাইয়ের রসায়ন, বাস্তবেও তেমনই বন্ধুত্ব। আড্ডা, আনাগোনা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার সেই সম্পর্ক বহু মানুষের চোখে পড়েছে।
এই জনপ্রিয়তার মধ্যেই বম্বে থেকে আসে হিন্দি ছবির ডাক। প্রথম হিন্দি ছবি বিশ সাল বাদ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই হিট হয়। ব্যস, বিশ্বজিৎ হয়ে ওঠেন মুম্বইয়ের নতুন ভরসা। একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে এবং বেশির ভাগ ছবিই সাফল্য পায়। প্রথম ছবির সাফল্যই যেন খুলে দেয় তাঁর ভাগ্যের দরজা।
এই জায়গাতেই উত্তমকুমারের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি হয়। উত্তমকুমারের প্রযোজিত ও অভিনীত হিন্দি ছবি অগ্নিপরীক্ষা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে মুম্বইয়ে নিজেকে স্থায়ী ভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তিনি পাননি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, উত্তম যদি সেখানে থেকে যেতেন, তবে কি ইতিহাস বদলাত। হয়তো, তবে তখন বাংলার মহানায়ককে আমরা পেতাম না।
আরও পড়ুনঃ ‘ওকে কতটা চেনেন?’- মেসির সঙ্গে ছবি ঘিরে কটাক্ষ! শুভশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা রাজের!
বিশ্বজিতের মানবিক দিকটিও ভোলার নয়। মুম্বইয়ে অতিথি এলে আপন করে নেওয়া, বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো, নিয়মিত খোঁজ রাখা ছিল তাঁর স্বভাব। আজও তিনি প্রাণবন্ত, মিশুকে মানুষ হিসেবেই পরিচিত। সময় বদলালেও সেই প্রজন্মের মানুষরা বদলায়নি। বিশ্বজিতের ব্যক্তিত্ব ও সাফল্য আজও তাই সমান উজ্জ্বল।

