‘পিঠ এবার দেওয়ালে ঠেকেছে!’ খোদ নিজের বাড়িতেই জবরদখলের শিকার টলি-অভিনেত্রী! মা ও দাদাকে সঙ্গে নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেত্রী রূপসা গুহ!

খোদ তিলোত্তমায় নিজের বাড়িতেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন টলিউডের (Tollywood) পরিচিত অভিনেত্রী রূপসা গুহ (Rupsha Guha) এবং তাঁর পরিবার। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির জবরদখল, ক্রমাগত মানসিক টর্চার এবং হুমকির মুখে পড়ে অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে তাঁদের। ভয় কাটিয়ে মা এবং দাদাকে পাশে নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মমতা মজুমদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রূপসাদির নিজের বাড়ির একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সুরাহা না মেলায়, শেষমেশ সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই টলি-অভিনেত্রী।

ঘটনার মূল সূত্রপাত রূপসা গুহদের দক্ষিণ কলকাতার চারুচন্দ্র মার্কেট থানা এলাকার বাড়িটিকে কেন্দ্র করে। রূপসাদির অভিযোগ, তাঁদের কেনা বাড়ির একটি ঘরে এক ব্যক্তি বেআইনিভাবে জবরদখল করে হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক চালাচ্ছেন। ওই ব্যক্তির কাছে বাড়ির কোনো বৈধ নথিপত্র, ভাড়ার রসিদ কিংবা কোনো লিগাল এগ্রিমেন্ট নেই। এমনকি তিনি কোনো ভাড়াও দেন না। রূপসা গুহ সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ওই ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার দাবি করলেও তাঁর কোনো আসল ডিগ্রি নেই। স্থানীয় ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মমতা মজুমদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর ব্যক্তিগত ডাক্তার হওয়ার সুবাদে ওই ব্যক্তি এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটান। তৃণমূলের স্থানীয় ক্লাব ও রক্তদান শিবিরের প্রধান মুখ হয়ে ওঠার কারণে ওই ব্যক্তি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন এবং বাহুবল বা ‘মাসল পাওয়ার’ দেখিয়ে বাড়িটি ছাড়তে অস্বীকার করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জবরদখলের পাশাপাশি রূপসাদির পরিবারকে প্রতিদিন নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাড়ির পরিচারিকা এবং গাড়িচালকদের ওপর একাধিকবার চড়াও হয়ে মারধর করেছে অভিযুক্তের অনুগামীরা। শুধু মানুষই নয়, রূপসাদির সারমেয় বা পোষা কুকুরগুলোও রেহাই পায়নি এই নৃশংসতা থেকে। রূপসাদি জানান, মাঝেমধ্যেই ইচ্ছে করে বাড়ির সদর দরজা খুলে তাঁর পোষ্যদের রাস্তায় বের করে দেওয়া হয়। রাস্তার কুকুরের কামড়ে বা দুর্ঘটনায় জখম হওয়া পোষ্যদের নিয়ে তাঁদের প্রতিনিয়ত ডাক্তারের দ্বারে দৌড়াতে হয়। এমনকি কাপড় মেলার তার কেটে দেওয়া, দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়ার সময় ঘরের ভেতর নোংরা জল ঢেলে দেওয়ার মতো চরম অভব্য আচরণও সহ্য করতে হয়েছে এই পরিবারটিকে। বাড়িতে মূলত রূপসাদি, তাঁর বৃদ্ধা মা এবং অন্যান্য মহিলারাই বেশি থাকেন, ফলে এই চরম অসভ্যতার মুখে তাঁরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাতেন।

এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে রূপসা গুহরা বারবার আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। পূর্বতন বাড়িওয়ালার সময় থেকেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোর্টের উচ্ছেদ আদেশ বা ‘এভিকশন অর্ডার’ রয়েছে। তা সত্ত্বেও চারুচন্দ্র মার্কেট থানার পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। রূপসাদির দাবি, পুলিশ কেবল তাঁদের নতুন করে কোর্টে চক্কর কাটার পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চায়। অন্যদিকে, আদালতের নোটিশ পাঠানো হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনোদিন আদালতে হাজিরা পর্যন্ত দেননি। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, রূপসাদি যখনই সাহায্যের আশায় স্থানীয় কাউন্সিলর মমতা মজুমদারের কাছে গেছেন, কাউন্সিলর কোনো সাহায্য তো করেনইনি, উল্টে পেছনের আবর্জনা পরিষ্কার বা অন্যান্য কাজের নাম করে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি দাবি করেছেন। শাসকদলের কাউন্সিলরই বিপক্ষে থাকায় এতদিন ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি তাঁরা।

আরও পড়ুন: ‘আমি ধারাবাহিকে অভিনয় করিনি কারণ…’ ‘ভুল গুলোকে সবসময় মেনে নিতে হবে…’ ‘আমি লিভ-ইন করতাম, সম্পর্কটা চলেনি!’ নিজের অতীত নিয়ে অকপট সৌম্য মুখোপাধ্যায়!

সম্প্রতি অত্যাচারের মাত্রা সমস্ত সীমা অতিক্রম করায় এবং অনবরত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের থেকে ফোনে ও রাস্তাঘাটে প্রাণনাশের হুমকি বা ‘থ্রেট কল’ পেতে থাকায় আর চুপ থাকতে পারেননি রূপসা। তিনি স্পষ্ট জানান, “এতদিন চুপ করে সব সহ্য করেছি, আর নয়। এবার পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।” ঘটনার দিন পুলিশ এসে যথারীতি ‘দেখছি’ বলে চলে গেলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যখন ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্লিনিকে গিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান, তখন ক্যামেরার সামনে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পেরে উল্টে অত্যন্ত রূঢ় ভাষায় সাংবাদিকদের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং জানান যে যা বলার তিনি আদালতেই বলবেন। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকেও যদি নিজের বাড়িতে এভাবে পলিটিক্যাল গুন্ডামির শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Back to top button