“একটা সময় আ’ত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি”- কেমন ছিল এক অসহায় মেয়ের রূপা গাঙ্গুলি হয়ে ওঠার সংগ্রাম!

৮০ দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন রুপা গঙ্গোপাধ্যায় (Rupa Ganguly)। বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করে সেই সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষ পৌঁছে গিয়েছিলেন রুপা। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক জগতেও (Political party) বেশ সক্রিয় তিনি। ২০১৫ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সদস্য তিনি। অভিনয় জগতে এখন খুব একটা দেখা যায় না রূপা গাঙ্গুলীকে। খুব বাছাই করেই কাজ করেন তিনি বর্তমানে।

পরিচালক বিজয় চট্টোপাধ্যায় তার নতুন হিন্দি ছবি নিরুপমাতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। সেইসময় রূপাকে এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। প্রথমে ইতস্তত করলেও রাজি হয়ে যান রূপা। সেটাই ছিল রুপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম কাজ। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প দেনা পাওনা অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন। এরপর বি আর চোপরার ধারাবাহিক মহাভারতে অভিনয় করে অভিনেত্রীর ভাগ্যের জায়গা ঘুরে যায়। আজও অভিনেত্রীর অভিনয় সকলে মনে রেখেছে। হিন্দি ছবিতে কাজ করার পর, তিনি কলকাতায় এসে ১৯৯০ সালে অসংখ্য বাংলা ছায়াছবি কাজ করেন।

রুপা গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনীত বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি হল নিরুপমা, একদিন আচানাক, প্যায়র ক্যা দেবতা, পদ্মা নদীর মাঝি, যুগান্ত, আবার অরণ্যে, এক মুঠো ছবি, ক্রান্তিকাল, নাগরদোলা আরও অনেক। অভিনয় জগতে এত সাফল্যের পরে অভিনেত্রীর শুরুর জীবনটা ছিল অনেক কষ্টের। অনেক কষ্টে তিনি এবং তার মা সংসার চালিয়েছেন।

নিজের জীবনের অন্ধকার দিকের কথা জানালেন রুপা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে জানিয়েছিলেন একটা সময় জীবন তার অনেক পরীক্ষা নিয়েছিল। তিনি সুইসাইড পর্যন্ত করতে গিয়েছিলেন। তার একজন সাংবাদিক বন্ধু তাকে সেই সময় ফোন করে ফেলায় তার আর ঘুমের ওষুধ গুলো খাওয়া হয়নি। তারপর সেই বন্ধু তার সঙ্গে টানা আধঘন্টা কথা বলেছিলেন। সেই বন্ধু সেদিন না থাকলে তিনি হয়তো বাঁচতেন না। বন্ধুর সাথে কথা বলার পর তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

এমনকি অভিনেত্রী জানিয়েছেন ‘আমি এবং আমার মা সেই সময় ২০০ টাকা দিয়ে সংসার চালিয়েছে। আমরা থাকতাম বাথরুমের থেকেও ছোট এক কামরার একটি ঘরে। বাবা থাকতেন বাংলাদেশে। এখানেই অনেক কষ্টের পড়াশোনা করেছি। আমাকে বাংলাদেশে কিডন্যাপ করা হয়েছিল পাচার করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আমি পড়তাম ক্লাস সেভেনে। জীবনের থেকে অনেক শিক্ষা পেয়েছি, তাই আমি মনে করি আত্মনির্ভর হওয়াটা খুবই জরুরী।’

আরও পড়ুন: জল নুপুরের ১০ বছর পর ফের প্রধান চরিত্রে লাভলি মৈত্র! বিপরীতে থাকছেন কোন জনপ্রিয় নায়ক!

অভিনেত্রী আরো জানিয়েছেন ‘রোজগার করার পর সব সময় মাথায় ঘুরতো বাবা-মাকে বাড়ি বানিয়ে দিতে হবে। তাদের সবার জন্য কিছু করতে হবে। তাই কখনোই নিজের জন্য কিছু চাওয়া হয়নি। কিভাবে চাইতে হয় সেটাই জানতাম না। সবাইকে সবকিছু দিয়েছি কিন্তু কোনদিনও নিজের জন্য কিছু নেইনি।’

Back to top button