‘সারাবছর ডাল ভাত, ওই একটা দিনই পাতে জুটতো ডিম…’- অল্পেই সন্তুষ্ট অভিনেত্রী! ছেলেবেলার কথা মনে পড়তেই চোখে জল রুপা গাঙ্গুলির!

ছোটবেলার জন্মদিন মানেই ছিল সরলতা আর ভালোবাসা। সারা বছর ডাল, ভাত আর বেগুনভাজা খেয়ে কাটলেও জন্মদিনে আমার জন্য থাকত এক বিশেষ আয়োজন। মা সেদ্ধ আলু, ডিম আর ভাত দিয়ে সাজিয়ে দিতেন আমার থালা। ডিম আমি খুব ভালোবাসতাম, তাই এই সহজ খাবারই ছিল আমার কাছে রাজকীয়। মা অল্প দুধে ছোট্ট বাটিতে পায়েস বানাতেন আর বাড়িতে আসত হয়তো দুই-চারজন। সেই পায়েস সবার জন্য ভাগ করে দিতেন মা। তখন মনে হত, এটাই সবচেয়ে দামি জন্মদিনের উপহার। নতুন জামা ছিল স্বপ্ন, তবু মনে কোনো অভিমান ছিল না। ভালোবাসা থাকলেই উৎসব পূর্ণ হতো।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাড়ি, মানুষ আর পরিবেশ। জেঠুর বাড়িতে যৌথ পরিবারের ভিড়, হৈহল্লা আর দুষ্টুমি— সেখানেও জন্মদিন কখনো ধুমধাম করে হয়েছে, কখনো আবার একেবারে শান্তভাবে কেটেছে। অভিনয়ে পা রাখার পর জীবন বদলে গেল। ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ল, আলোঝলমলে দুনিয়া কাছে এলো। জন্মদিনও পেল নতুন সাজ, নতুন রং। তবে বন্ধুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বদলে কমেই থাকল। আমি নিজেই বেছে নিয়েছিলাম কয়েকজন কাছের মানুষকে, আর সেই ছোট গণ্ডিই হয়ে উঠল আমার জীবনের আনন্দের জায়গা।

এই আলো ঝলমলের মাঝেও মায়ের হাতের পায়েস আর ডিমের কোনো না কোনো পদ থেকেছে অপরিবর্তিত। বোন সোনা এলে সেই পুরনো দিনের মতো সেদ্ধ ডিম আর ভাত খেয়ে যেন আবার শিশুকালের জন্মদিন ফিরে আসত। আবার এমন বছরও গেছে, যখন নামডাক ছিল, শুটিং ছিল, নতুন বাড়ি ছিল— অথচ হাতে টাকা ছিল খুব কম। কেক কেনা হয়নি, পার্টি হয়নি। তবু বন্ধুরা কেক নিয়ে এসে হাজির। গান, আড্ডা আর এক কাপ চা-ই তখন জন্মদিনকে আবার করে তুলেছিল বিশেষ।

জন্মদিনে এক জন কখনও অনুপস্থিত হয় না— আমার ছেলে। সে আমার শক্তি, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। যখন-তখন চলে আসে, তবে জন্মদিনে আসাটা তার নিজের নিয়ম। এ বছর আগাম উদ্‌যাপন হয়েছে, কারণ আমার আর বোনের জন্মদিন কাছাকাছি। দাদা মাঝের একটা তারিখ ঠিক করে সবাইকে নিয়ে উৎসব করেছে। হাসি, গল্প আর একসঙ্গে থাকা— এটাই তো আসল উপহার।

আরও পড়ুনঃ শুধু একটা ফোন না তোলায় সব শেষ! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে রাতারাতি বাদ! কি হয়েছিল অভিনেত্রী অনুশ্রী দাসের সঙ্গে?

তবে এ বছর একটা অভাব আছে— মা নেই। হয়তো এ জন্মদিনে পায়েস থাকবে না, থাকবে না সেই স্নেহভরা হাত। সবাই চলে গেলে, বাড়ি নিঃশব্দ হলে আমি দাঁড়াব ব্যালকনিতে। দূর আকাশের একটিকে তারা হয়তো একটু বাড়তি আলোয় জ্বলবে। মনে হবে, ওটাই মা। ও হাসছে, আমায় দেখছে আর বলছে— “আমি এখানেই আছি।” সেই আলোতেই আবার জন্মদিনের মানে খুঁজে পাব, যেমন শৈশবে পেয়েছিলাম ভালোবাসার এক চামচ পায়েসে।

Back to top button