‘জোর করে ধরে রাখছে দেবকে!’ ‘সুস্থ মানুষ এই দলে থাকতে পারে না!’ সহঅভিনেতা দেবের প্রসঙ্গ টেনে এনে তৃণমূলকে আক্রমণ রুদ্রনীল ঘোষের!

টলিউডের (Tollywood) চলচ্চিত্র জগতে অভিনেতা দেব অধিকারী (Dev Adhikari) এবং রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh) দুজনেই অত্যন্ত সুপরিচিত নাম। দেব যেখানে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার শীর্ষস্থানীয় নায়ক হিসেবে রাজত্ব করছেন, সেখানে রুদ্রনীল ঘোষ তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেব রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০১৪ সাল থেকে ঘাটালের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, রুদ্রনীল ঘোষ তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে, পরবর্তীতে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হলেও বর্তমানে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম সক্রিয় মুখ ও দাপুটে নেতা। অভিনয়ের মঞ্চ থেকে রাজনীতির ময়দানে দুই অভিনেতার এই ভিন্ন মেরুর অবস্থান বরাবরই সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেবের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল দাবি করেছেন যে, দেব নাকি বিজেপি শাসিত কোনো একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন। তাঁর মতে, দেবের এই পদক্ষেপের কারণেই শাসক দলের অন্দরে তীব্র অস্থিরতা ও ব্যাগ্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রুদ্রনীল ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে, দেবের মতো প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি যদি দল ছাড়েন, তবে তা তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি আসলে দেবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছেন।

রুদ্রনীল ঘোষের মতে, দেবের এই নিরবতা বা ধোঁয়াশা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ভিডিওতে উল্লেখ করেছেন যে, দলের বড় বড় নেতা ও মন্ত্রীরা দেবের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং দোদুল্যমানতার শিকার হচ্ছেন। রুদ্রনীলের দাবি অনুযায়ী, দেব যদি সত্যিই তৃণমূলের প্রতি অনুগত থাকতেন বা দলেই থাকতে চাইতেন, তবে তিনি অনেক আগেই সংবাদমাধ্যম বা দলের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটাতেন। কিন্তু দেবের পক্ষ থেকে তেমন কোনো জোরালো বক্তব্য না আসায় রুদ্রনীল মনে করছেন, সাংসদ অভিনেতার সাথে তাঁর বর্তমান দলের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুদ্রনীল আরও অভিযোগ করেছেন যে, শুধুমাত্র দেব নন, বরং আরও অনেক পরিচিত মুখ এবং জনপ্রতিনিধিরা বর্তমানে দলের থেকে দূরে সরছেন। তিনি দাবি করেন, গত ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চের পর থেকে তৃণমূলের বহু এমপি এবং এমএলএ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা কমিয়ে দিয়েছেন বা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল দল এখন এতটাই কোণঠাসা যে তারা যেভাবেই হোক দেবকে ধরে রাখার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘হাঁকুপাকু’ করার মতো শব্দ ব্যবহার করে শাসক দলের অস্বস্তিকে কটাক্ষ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার মতন একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে এতদিন…’ ‘আমার জলওয়া দেখানোর সময় এসেছে!’ বিধায়ক হওয়ার পর নতুন আত্মবিশ্বাসে পাপিয়া অধিকারী!

পরিশেষে, রুদ্রনীল ঘোষ দেবের বর্তমান অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে একটি কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন যে, দেব বা তাঁর মতো যে কোনো সুস্থ মানুষ যদি বর্তমান পরিস্থিতির শিকার হন, তবে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই সরে আসার সিদ্ধান্ত নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টলিউডের দুই সহকর্মীর মধ্যে এই বাক্যযুদ্ধ আসলে বাংলার আসন্ন নির্বাচনের আগে দলবদলের রাজনীতিরই একটি মহড়া। দেব শেষ পর্যন্ত কী করবেন বা রুদ্রনীলের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা সময়ের সাথেই পরিষ্কার হবে। তবে আপাতত এই দুই তারকার রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে সরগরম রয়েছে বাংলার জনমত ও সংবাদমাধ্যম।

Back to top button