‘তুমি যতই আমার থেকে ছোট হও না কেন, তোমাকে আমার কাজ করে দিতে হবে…’ তুমি আমার মেয়ের চরিত্রে অনেক অভিনয় করেছ, কিন্তু এইবার…’ সবাইকে ভালোবেসে সবার সাথে চলতে চান রূপা গাঙ্গুলী! সায়নী ঘোষকে নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী!

বাংলা চলচ্চিত্র জগত (Tollywood) থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা রূপা গাঙ্গুলী (Roopa Ganguly) বরাবরই তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত। আশির দশকের শেষভাগে বিআর চোপড়ার ‘মহাভারত’-এ দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সারা ভারতের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ঋতুপর্ণ ঘোষ বা অপর্ণা সেনের মতো পরিচালকদের ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও যথেষ্ট বর্ণময় এর আগে তিনি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বছরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি বর্তমান রাজনীতির অন্যতম দায়িত্বশীল মুখ।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর রূপা গাঙ্গুলীর একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে এক নতুন ঘরানার রাজনীতির কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। তিনি জয়ী হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর লড়াই কেবল নিজের সমর্থকদের জন্য নয়। রূপা গাঙ্গুলীর মতে, তিনি তাঁদেরও সমান শ্রদ্ধা ও সম্মান দেবেন যারা তাঁকে ভোট দেননি। গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের লড়াই দলীয় স্তরে হলেও, জেতার পর একজন নেতা বা নেত্রী সমগ্র এলাকার মানুষের সেবকে পরিণত হন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে রূপা গাঙ্গুলী এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, একজন বিধায়ক, সাংসদ বা কাউন্সিলর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেন, কিন্তু আসন গ্রহণের পর তিনি আর কোনো দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না। তাঁর মতে, “জেতে আসার পর সকল মানুষই জনপ্রতিনিধির নিজস্ব”। সাড়ে পাঁচ বছরের সাংসদ জীবনের এই শিক্ষা তিনি এখন তাঁর নতুন কার্যকালেও প্রয়োগ করতে চান। বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে সাথে নিয়ে চলাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অভিনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য। রূপা গাঙ্গুলী জানান, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সায়নী ঘোষের কাছে যেতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। পর্দার সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সায়নী তাঁর ছোট এবং অনস্ক্রিন মেয়ের চরিত্রে অনেক অভিনয় করেছেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমান সমীকরণে সায়নী যদি সাংসদ হন, তবে বিধায়ক হিসেবে রূপা গাঙ্গুলী তাঁর কাছে এলাকার দাবিদাওয়া নিয়ে অবশ্যই যাবেন। “তুমি যতই আমার ছোট হও, এখন তুমি এমপি, তাই আমার এমএলএ-র কাজ তোমায় করে দিতে হবে” এভাবেই এক আন্তরিক অথচ পেশাদারী সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ভোটে হারার পরেই অসুস্থ সায়ন্তিকা ব্যানার্জি! রাজনীতি ছেড়ে ফিরলেন ‘প্রাক্তন’-এর কাছে! জল্পনা তুঙ্গে!

পরিশেষে বলা যায়, রূপা গাঙ্গুলীর এই অবস্থান বর্তমান সময়ের তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক পশলা ঠান্ডা বাতাসের মতো। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য যদি হয় সাধারণ মানুষের উন্নয়ন, তবে যে কোনো স্তরের সমন্বয় সম্ভব—এটাই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন। বিজয়ী হয়েও অহংকার নয়, বরং সৌজন্য এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করে তিনি রাজনীতির ময়দানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সাধারণ মানুষ এখন এটাই আশা করছে যে, তাঁর এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে এলাকার সার্বিক উন্নতিতে সহায়ক হবে।

Back to top button