‘ওই মানুষটাই আমার সব ছিল, আমার জীবনের…’- দিদার স্মৃতিতে দুচোখে জল! কাছের মানুষকে হারিয়ে আবেগপ্রবণ রণিতা দাস!

ঠাকুমা দাদু মানেই জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তাঁদের আদর, শাসন আর নিঃশর্ত ভালোবাসার ছায়ায় বড় হয়ে ওঠা মানে এক আলাদা শক্তি পাওয়া। অভিনেত্রী রণিতা দাসের জীবনেও দিদা ছিলেন ঠিক তেমনই এক অবলম্বন। বছরখানেক আগে দিদিমাকে হারিয়েছেন তিনি। সময় এগোলেও শূন্যতা আজও কাটেনি। বরং প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে আরও গভীর ভাবে অনুভব করেন সেই অভাব। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছোটবেলার স্মৃতি ভাগ করে আবেগে ভাসিয়েছেন রণিতা।

ভালোবাসায় ভর করেই দিদাকে তিনি ডাকতেন বুড়ি বলে। সেই ডাক শুনে দিদার রাগ করা, আবার পর মুহূর্তেই আদরে ভরিয়ে দেওয়া আজ শুধুই স্মৃতি। রণিতা লিখেছেন, এক সময় দিদা বকতেন বুড়ি বলিস কেন দিদা বল। তারপর শুরু হতো অফুরন্ত ভালোবাসা। আজ আর সেই বকুনি নেই। মাঝেমধ্যেই আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি চুপচাপ জিজ্ঞেস করেন ওপারে কেমন আছো। দাদুর সঙ্গে কি দেখা হয়েছে। দিদার চলে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও কথোপকথন যেন থামেনি।

রণিতার বিশ্বাস দিদার উপস্থিতি আজও তাঁকে আগলে রাখে। তাঁর স্পর্শ, যত্ন আর শান্তি যেন অদৃশ্য ভাবে ঘিরে রয়েছে। ভয় পেলে দিদাকে বলতেন আমার জন্য প্রার্থনা করো। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল দিদার মুখে বলা কথা ঈশ্বর কখনও ফেরান না। আজও তিনি অনুভব করেন কেউ যেন দূর থেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন। এমন ভাবে রক্ষা করছেন যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু মনে গভীর আস্থা জাগায়।

জীবনের কঠিন সময়গুলোয় কখনও নিজেকে একা মনে করেননি রণিতা। প্রতিটি লড়াইয়ে দিদার শক্তি যেন তাঁর ভেতর থেকেই উঠে আসে। পথ হারালে মনে হয় কেউ হাত ধরে এগিয়ে দিচ্ছেন। কখনও সাহস জোগাচ্ছেন আবার কখনও ভরসা দিচ্ছেন। দিদার শেখানো মূল্যবোধ আর ভালোবাসাই আজ তাঁর চলার পাথেয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি একটা মিথ্যেকে বিক্রি করছি!’ কোন মিথ্যের কথা ফাঁ’স করলেন অভিনেতা রজতাভ দত্ত?

রণিতা স্পষ্ট করে বলেছেন দিদা শুধু পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন শক্তি আশ্রয় আর নীরব প্রার্থনার প্রতীক। শারীরিক ভাবে না থাকলেও তাঁদের সম্পর্ক আজও অটুট। আত্মিক বন্ধনে বাঁধা এই যাত্রা সময় বা দূরত্বে কখনও ভাঙবে না। দিদা আজও তাঁর সাহস বিশ্বাস আর প্রতিটি দৃঢ় সিদ্ধান্তের মধ্যেই বেঁচে আছেন।

Back to top button