‘আজকের সুপারস্টার ঋতুপর্ণাকে প্রথম সুযোগ আমিই দিয়েছিলাম! আমি বলেছিলাম বলেই ও আজ…’ রত্না ঘোষালের হাত ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে হাতেখড়ি ঋতুপর্ণার! সেই ঘটনাই দর্শকদের জানালেন প্রবীণ অভিনেত্রী!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল এবং প্রথম সারির অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। দীর্ঘ তিন দশক ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর রাজত্ব। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে সমান্তরাল ধারার সিনেমা সব জায়গাতেই নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তবে আজকের এই ‘সুপারস্টার’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে প্রথম লাইমলাইটে কে এনেছিলেন? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সেই অজানা ইতিহাসই হাতড়ে বেড়ালেন টলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঋতুপর্ণার কেরিয়ারের প্রথম ব্রেকটি এসেছিল তাঁর হাত ধরেই।

রত্না ঘোষাল তাঁর সাক্ষাৎকারে জানান, একটা সময় অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর নিজস্ব একটি প্রযোজনা সংস্থা বা হাউস ছিল, যার নাম ছিল ‘ইউনিফোকাস’। এই ব্যানারের তরফেই তখন তৈরি হচ্ছিল ‘সাদা পায়রা’ নামের একটি কাজ। আর এই ‘সাদা পায়রা’-তেই একবারে নতুন মুখ হিসেবে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। রত্না ঘোষালের কথায়, “আজ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আমার হাউস থেকেই বড় হয়েছে। আমার প্রথম ওকে আমি চান্স দিই সাদা পায়রায়।”

‘সাদা পায়রা’-তে ঋতুপর্ণার কাজ দেখে টলিউডের নামী পরিচালক প্রভাত রায়ের নজরে পড়েন তিনি। সেই সময় প্রভাত রায় তাঁর আগামী একটি মেগা প্রজেক্টের জন্য নতুন মুখের সন্ধান করছিলেন। রত্না ঘোষাল জানান, ঋতুপর্ণার অভিনয় দেখার পর প্রভাত রায় সরাসরি তাঁকে ফোন করেন এবং জানতে চান, “রত্না, ওই মেয়েটি অভিনয় করল, কিরকম বলতো?” রত্না ঘোষালও বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ঋতুপর্ণার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পরিচালককে আশ্বস্ত করে বলেন যে মেয়েটি ভীষণ ভালো কাজ করেছে।

আসলে সেই সময় পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘শ্বেত পাথরের থালা’-র প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই ছবিতে একটি অল্প বয়সী, সাধারণ ও মিষ্টি মেয়ের চরিত্রের জন্য একজন নতুন অভিনেত্রীর প্রয়োজন ছিল। রত্না ঘোষাল যখন প্রভাত রায়কে ঋতুপর্ণার নাম জোর দিয়ে সুপারিশ করেন, তখন পরিচালকও ভরসা পান। রত্না ঘোষাল তাঁকে বলেছিলেন, “খুব ভালো, ওকে নিয়ে নাও না। আমি ভাবছি শ্বেত পাথরের থালায় ওরকম একটা বাচ্চা মেয়ে দরকার।” রত্না ঘোষালের এই গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরেই প্রভাত রায় যোগাযোগ করেন ঋতুপর্ণার সাথে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার ছবিটা হাতে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল! দিনের পর দিন দরজায় দরজায় ঘুরেছি…’ ছিলনা মাথার উপর ছাতা! কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই চোখে জল আরাত্রিকা মাইতির!

বাকিটা অবশ্য ইতিহাস। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শ্বেত পাথরের থালা’ সিনেমাটি বক্স অফিসে যেমন ঝড় তুলেছিল, তেমনই শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও ছিনিয়ে নিয়েছিল। আর এই ছবির হাত ধরেই বড় পর্দায় ডেবিউ করে রাতারাতি দর্শকদের মন জয় করে নেন ঋতুপর্ণা। রত্না ঘোষাল আনন্দের সাথে জানান, টলিপাড়ার অনেকেই হয়তো এই পেছনের গল্পটি জানেন না, কিন্তু ঋতুপর্ণার আজকের এই সাফল্যের ভিতটা গড়ে উঠেছিল তাঁর সেই জহুরির চোখ এবং ‘সাদা পায়রা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমেই।

Back to top button