‘আমি হেরে গেছি’- হঠাৎ আক্ষেপের সুর অভিনেত্রী ঋতাভরীর গলায়!

বর্তমানে এই টলিউডের ‘মিষ্টি নায়িকা’ বলে পরিচিত অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তীকে (Ritabhari Chakraborty)। সমাজমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ার্সের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন। অভিনয় হোক বা মডেলিং সবেতেই তার জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি আড্ডা টাইমসে প্রকাশ পেয়েছে তার অভিনীত নন্দিনী। মডেল, অভিনেত্রী প্রভৃতির বাইরেও তিনি একজন মা। আর এই মা হওয়ার গল্প নিয়েই খোলামেলা আড্ডায় মাতলেন অভিনেত্রী।

নন্দিনীর জার্নিটা কেমন ছিল?

অভিনেত্রী জানান, “এই প্রজেক্টটা আমার সবথেকে ভালো কাজ গুলোর মধ্যে একটা বলে আমি মনে করি। এই গোটা জার্নিতে একজন মা ঠিক কি কি স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে যায় সেই সবটাই ভেতর থেকে ফিল করেছি। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। নিজের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য অনেক লড়াই করেছে স্নিগ্ধা। আশা করি দর্শকদের এই সম্পূর্ণ বিষয়টি বেশ ভাবাবে আর আনন্দ দেবে।”

জন্ম না দিলেও মা হওয়া যায়, এটা কি বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী?

তার মতে, “একদম, জন্ম না দিলেও মা হওয়া যায় আর আজ আমি অনেকগুলো বাচ্চার মা। গত তেরো বছর ধরে আমি একটা স্কুলের দায়িত্ব নিয়েছি। এই স্কুলের নাম আইডিয়াল স্কুল ফর দ্য ডেফ। এখানে আমার যে বাচ্চারা পড়ে তারা কেউ বলতে পারে না বা শুনতে পারেনা। তবুও আমি যখন এখানে আসি তাদের সাথে সময় কাটাই, তখন তাদের থেকে আমি যে ভালোবাসা পাই সেটা বাক্য দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। আমি ওদের জন্ম না দিলেও নাড়ির টান অনুভব করতে পারি।”

আমাদের সমাজ এখনো অনেকটা পিছিয়ে, কেন এ কথা বললেন অভিনেত্রী?

তিনি বলেন, “নন্দিনীর প্রধান গল্পই হচ্ছে কন্যা সন্তান বাঁচানোর লড়াই। কন্যা সন্তান হবে বলে যখন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেরে ফেলতে চাইছে তখন একটা মা কিভাবে লড়াই করেছে সেটাই প্রধানত এখানে দেখানো হবে। আর আমরা এখন অব্দি এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি সেটাই প্রমাণ দেয় যে এই মেয়ে সন্তানের জন্ম না দিতে চাওয়ার বিষয়টা এখনো আমাদের সমাজে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলছে।”

মা হতে গিয়ে অনেকবার হেরেও গিয়েছেন তিনি, এই নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?

ঋতাভরী জানান, “মা হতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি অনেকবার হেরেও গিয়েছি। এমনও হয়েছে আমি আমার স্কুলের দুটো বাচ্চার অপারেশন করাতে চেয়েছি যাতে তারা শুনতে পায় এবং বলতে পারে কিন্তু তাদের আসল বাবা-মা চায়নি। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, প্রিন্সিপাল ম্যাম তাদের ভিডিও দেখিয়েছে কিন্তু তারা রাজি হননি। ওই বাচ্চা দুটোকে পরবর্তীকালে একেবারে সুস্থ করার সুযোগটা পেয়েও হাতছাড়া হয়েছে। তো সে ক্ষেত্রে এটা অনেক বড় না পাওয়া।”

Back to top button