যে কোনও দিন অভিনয় ছেড়ে দেবেন ঋতাভরী চক্রবর্তী? কেন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার কথা ভাবছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। অনেক ছোটবেলা থেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film Industry) সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। স্টার জলসার ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ হাত ধরে প্রথম অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী। তারপর থেকে একের পর এক সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এ কাজ করে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি সফল তো বটেই তবে ব্যক্তিগত জীবনে তাকে অনেকবার অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে।

তবে হঠাৎ করেই অতীতে ফিরে গেলেন অভিনেত্রী। ঋতাভরীর কথায়, “পেশার দুনিয়ায় যত না ঘা খেয়েছি তার চেয়েও বেশি কেঁদেছি ব্যক্তিগত জীবনে।” অভিনেতা অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই চর্চা হয়ে থাকে। ঋতাভরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানান সময়ে কাটাছেঁড়া হয়েছে। সেইসময় কখনও কখনও ঋতাভরী হয়তো ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু কখনও মচকে যাননি। সব শক্তি জড়ো করে আবারো হাসিমুখে উঠে দাঁড়িয়েছেন। তবে যার এতটাই মনের জোর, তাঁর তো চট করে অতীত ফিরে দেখার কথা না! কেন ফেলে আসা ‘আমি’কে আরও এক বার খুঁজলেন তিনি?

তবে কি এবারে অভিনয় জগৎ থেকে বড়সড় আঘাত পেয়ে সরে দাঁড়াতে চলেছেন অভিনেত্রী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঋতাভরী জানিয়েছেন, “অনেকেই হয়তো ভাবছেন, বিয়ে করতে চলেছি। তার আগে তাই ফেলে আসা জীবনে চোখ রাখছেন। এ রকম কিন্তু কিছুই নয়।” তিনি এই মুহূর্তে পরিচালক প্রতিম ডি গুপ্তের একটি সিরিজ়ে অভিনয় করছেন। সেখানে তাঁর সহ-অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। যাঁর সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজ ধারাবাহিক ‘ওগো বধূ সুন্দরী’। এত বছর পরে তাঁরা এক ফ্রেম ভাগ করতেই ঋতাভরীর মনে অতীত দোলা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “পেশাজীবন, ব্যক্তিজীবনও এর সঙ্গে জড়িত।” তার পর তিনি ভাগ করে নিয়েছেন জীবন শুরুর অভিজ্ঞতা। “প্রথম যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন আমি কিশোরী। তখন আমি মধ্যবিত্ত সংসারের মেয়ে। মানসিকতা বা ধ্যানধারণাও সে রকমই ছিল। পৃথিবী কেমন, কী ভাবে সেখান থেকে নিজেদের প্রয়োজন মেটাব— সে সম্পর্কে অন্য রকম ধারণা ছিল।”

এত বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে করতে অভিনেত্রী বুঝতে পেরেছেন, “অনেককে দেখেছি, অনায়াসে অনেক কিছু করতে পেরেছে। আমি সেটা পারিনি।” তবে অভিনেত্রী কেবল ভয় পেতেন, তাঁর এই সত্তা বিক্রি হয়ে যাবে না তো! তাঁর বেড়ে ওঠা, মূল্যবোধ— আজীবন সঙ্গী করে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন? এত দ্বিধার মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁর কথায়, “ঋতাভরী চক্রবর্তী নাম জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারও কাছে আলাদা করে নিজেকে বোঝাতে হয় না।”

আরও পড়ুনঃ ‘শরীর দেখিয়ে কাজ করতে পারবো না, তাতে যদি…’- কম্প্রোমাইজ করতে নারাজ শ্বেতা! নিজের সততা এবং শিক্ষা দিয়ে ভক্তদের মন জয় করে নিলেন অভিনেত্রী!

একজন মেয়ের যা যা স্বপ্ন থাকে সেই সব স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন ঋতাভরী। অভিনেত্রী বাড়ি, গাড়ি, অর্থ, যশ, নামী পরিচালকদের ছবিতে কাজ, সম্মান সব পেয়েছেন। এ বার প্রশ্ন, পরিণত ঋতাভরী কী চান? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করার পরে নিজেই তার উত্তর দিয়েছেন। অভিনেত্রী বলেছেন, “৩০ বছর পেরোলেই যে কোনও মেয়ে নিজেকে নিজে এই প্রশ্নটাই করে।” তাই নিজের প্রয়োজন সম্পূর্ণ হয়ে গেলে হয়তো যে কোনও দিন অভিনয়ও ছেড়ে দিতে পারেন! কাজের জন্য তিনি আর বাঁচেন না। নিজের জন্য বাঁচতে শিখে গিয়েছেন তিনি।

Back to top button