‘বাবার অ’স্থি হাতে নিয়ে ওই ছোট্ট শিশুর মনে একটাই প্রশ্ন…’ ১৩ বছর বয়সেই দুনিয়ার ন’গ্ন রূপ দেখছে এক কিশোর! রাহুলের মৃ’ত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসলেন ঋদ্ধি সেন!

গত রবিবার তালসারিতে ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’র শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। জলে তলিয়ে যাওয়ার সেই ঘটনা মুহূর্তে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে গোটা টলিউডে। সোমবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল, মাত্র তেরো বছরের ছেলে সহজের হাতে বাবার অস্থি বিসর্জন। সেই মুহূর্তের ছবি এবং পরিবারের কান্নাভেজা দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আরও ভারী হয়ে ওঠে আবহাওয়া।
এই পরিস্থিতিতে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, যে শিশুটি নিজের বাবার অস্থি হাতে নিয়ে বিদায় জানায়, তার মনে সারাজীবনের জন্য একটাই প্রশ্ন থেকে যায়, কেন। তাঁর মতে, এই প্রশ্নের উত্তর কখনও পাওয়া যায় না, আর সেই উত্তরহীনতাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক। যিনি চলে গেছেন তিনি আর কিছু বলতে পারবেন না, ফলে তাঁর নামে মিথ্যে গল্প দাঁড় করানো খুব সহজ হয়ে যায়, যা আরও ভয়ংকর।
ঋদ্ধি আরও বলেন, একজন প্রয়াত মানুষের মুখে যদি ভুল ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা শুধু অমানবিক নয়, বরং তা অপরাধ হিসেবেই দেখা উচিত। তিনি মনে করেন, সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সত্যিটা খুঁজে বের করা। কারণ, সত্য জানলেও হয়তো মানুষটি আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁদের কাছে এই উত্তরটা অত্যন্ত জরুরি। এই ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই রয়েছে মানবিকতার আসল পরীক্ষা।
একই সঙ্গে তিনি সমাজমাধ্যমের বর্তমান প্রবণতার দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, আজকাল মানুষ শোক প্রকাশের থেকেও বেশি আগ্রহী ট্রোল করতে। কারা কীভাবে কাঁদছে, কে কী পোশাক পরেছে, এসব নিয়ে বিচার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে অনেকেই। অথচ যাঁরা সত্যিই শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এই প্রবণতাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
আরও পড়ুনঃ অসহায়ের মতো ছেলেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বারবার! ‘আমার বাবিনটা কোথায় গেল?’ চোখে জল আনছে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের অসহনীয় শোক!
ঋদ্ধির এই আবেগঘন পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলিও সেই পোস্ট শেয়ার করে সমর্থন জানিয়েছেন। রাহুলের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, বরং অনেক মানুষের জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। আর সেই শূন্যতার মাঝেই বারবার ফিরে আসছে একটাই প্রশ্ন, যার উত্তর এখনও অধরা রয়ে গেছে।

