“শোক আজ সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে পরিণত, মৃ’ত্যুতে ‘রিপ’লেখা এখন সংস্কৃতি!”— সমাজ মাধ্যমের ট্রেন্ড-সংস্কৃতি নিয়ে ঋদ্ধির কড়া কটাক্ষ! নয়া প্রজন্মের ফাঁপা আবেগ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ!

বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে ‘হ্যামলেট’ (Hamlet) মঞ্চস্থ করার সাহস খুব কম নাট্যদলের মধ্যেই দেখা যায়। সেই সাহস নিয়েই বরাবর এগিয়ে এসেছে নাট্যদল ‘স্বপ্নসন্ধানী’। বহুবার মঞ্চে এই বিখ্যাত চরিত্রে দেখা গেছে ‘ঋদ্ধি সেন’কে (Riddhi Sen), যাঁর অভিনয় প্রতিবারই দর্শককে মুগ্ধ করেছে। হ্যামলেট চরিত্রে তাঁর অনবদ্য প্রকাশ ভক্তদের যেমন মুগ্ধ করেছে, তেমনই সমালোচকরাও প্রশংসা করেছেন। ঋদ্ধির বাবা কৌশিক সেন এই নাটকের নির্দেশক, যিনি একইসাথে ‘ক্লডিয়াস’ চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।
ঋদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়েই ওই মঞ্চনাটকে মা রেশমি সেন ‘গারট্রুড’, আর বান্ধবী সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ওফেলিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। করোনা অতিমারির পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে হ্যামলেট মঞ্চস্থ হয়েছিল নতুন প্রেক্ষাপটে। সেই উপলক্ষে ঋদ্ধিকে আইবিইএ-এর (IBEA) তরফে এক বিশেষ সম্মানেও ভূষিত করা হয়। তবে এত প্রশংসিত হওয়া এক প্রোডাকশন নিয়েই সম্প্রতি ঋদ্ধির মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনার ঝড়!
সম্প্রতি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পডকাস্টে এসে ঋদ্ধি ‘হ্যামলেট’-এর মতো নিজের অন্যতম সফল প্রজেক্টকে নিয়েই করলেন একপ্রকার কটাক্ষ। এমন সাহসী বক্তব্যের নেপথ্যে কী কারণ? ঋদ্ধির মতে, এখনকার সমাজ আর সেই জায়গায় নেই যেখানে শিল্প সমাজকে উদ্ধার করতে পারে। তিনি বলেন, “করোনার পর ‘হ্যামলেট’ ফিরিয়ে আনার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একধরনের মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া। কিন্তু আজকের বাংলার সামাজিক বাস্তবতা পচনশীল। এই পচন থামানো সম্ভব নয়, শুধুই কিছুটা ধীর করা যায়।”
তাঁর কথায়, সমাজের ভেতরের গভীর অস্থিরতা এবং চঞ্চলতাই আজ আর শিল্পের মাধ্যমে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আধুনিক সময়ের ‘সোশ্যাল মিডিয়া শোক’ সংস্কৃতি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন ঋদ্ধি। তিনি বলেন, “আজকাল কেউ মারা গেলে সবাই ‘রিপ’ (RIP) লেখে, আর গাজার মতো আন্তর্জাতিক সংকট দেখলেই সবাই ‘অল আইজ অন…’ (All eyes on) শেয়ার করতে থাকে। শোক পর্যন্ত এখন ট্রেন্ড হয়ে গেছে।” এই ট্রেন্ড-ভিত্তিক আবেগকে ঋদ্ধি কৃত্রিম বলেই মনে করেন, যেখানে বাস্তব অনুভূতি গৌণ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ সফলতার দোরগোড়ায় বর্ষা-চন্দ্র! ফেঁসে গেল কমলিনী! মাঝে ঢুকে পড়ে সব ভেস্তে দিল নতুন!
তিনি মনে করেন, বিশ্ব আজ এক অদৃশ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে গান-কবিতা লিখে সমাজ বদলানো প্রায় অসম্ভব। শেষে নিজের অবস্থান নিয়ে ঋদ্ধি বলেন, তিনি সৌভাগ্যবান যে থিয়েটার এবং সিনেমার মতো শিল্পের জগতে কাজ করছেন, যেখানে আজও বিনিয়োগ আসছে। তবে শিল্পের আগে মানুষের জীবনধারণের মৌলিক প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবতে হবে বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আগে চাই অর্থনৈতিক স্বস্তি, তারপর আসবে শিল্পের শক্তি।

